তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এক নতুন ধাপে প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।
বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইস্যুটি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচিত বিষয়। এই কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার অনুরোধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, আশা করি বিশ্ববাসী এবার দেখবে যে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।
তিনি জানান, ওয়াশিংটন আঙ্কারার ওপর থেকে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করা উভয় দেশের স্বার্থেরই অনুকূল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল যুদ্ধবিমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প এবং নৌ প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা জাহাজ নির্মাণসহ যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্পের পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
এই সহযোগিতার আওতায় ফ্রিগেট, সাবমেরিন এবং ছোট যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এ ছাড়া, তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি কান যুদ্ধবিমানের জন্য এফ১১০ ইঞ্জিন সরবরাহের বিষয়টি নিয়েও আগে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন, এবার আর কোনও বাধা থাকবে না।
তুরস্কে আয়োজিত এই ন্যাটো সম্মেলন নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, এই আয়োজনটি আরও বেশি ইউরোপীয় দায়িত্বশীলতা, উন্নত সামরিক সক্ষমতা এবং ন্যায্য অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী জোটের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে তুরস্ক অনেক ন্যাটো মিত্রের চেয়ে ‘বহুলাংশে এগিয়ে’ রয়েছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, তুরস্ক ন্যাটোর সেই অল্প কয়েকটি মিত্র দেশের একটি, যারা নিজেদের যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, জাহাজ এবং নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও উন্নয়ন করে।
ন্যাটো জোটের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে আঙ্কারা আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড