যুদ্ধবিমানের পাহারায় খামেনির কফিন, মাশহাদে ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যানারে যা লিখলো ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন বহনকারী উড়োজাহাজটিকে আকাশপথে পাহারা দিয়ে পবিত্র মাশহাদ শহরে নিয়ে গেছে দেশটির একটি যুদ্ধবিমান। বৃহস্পতিবার খামেনির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এই দৃশ্য দেখা গেছে। ইমাম রেজা মাজারে চূড়ান্ত দাফনের আগে তার কফিনটি শহীদ হাশেমিনেজাদ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

খামেনির কফিনের সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছেন খামেনির মেয়ে সাইয়্যেদাহ বুশরা হোসাইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ আল হুদা বাঘেরি কানি, পুত্রবধূ জহরা হাদ্দাদ আদেল, ছোট নাতনি জহরা মোহাম্মদ গোলপায়েকানি এবং তার স্ত্রী মনসুরেহ খোজাতেহ বাঘেরজাদেহ (যিনি হামলার একদিন পর কোমায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান)।

মাশহাদে পৌঁছানোর আগে ইরাকের পবিত্র নাজাফ ও কারবালা শহরে খামেনির এই ছয় দিনব্যাপী জানাজা প্রক্রিয়ায় বিপুল মানুষের ঢল নামে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার দাফন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে।

খামেনির জানাজা চলার মাঝেই বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন সিরিক, বুশেহর, কোনারক, চাবাহার ও বন্দর আব্বাসে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির খবর অনুসারে, এতে ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক ও পরিবহন লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে মেহর নিউজের বরাতে জানা গেছে, মাশহাদের যে সড়কটি ইমাম রেজা মাজারের দিকে গেছে, সেখানে জানাজা চলাকালীন ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করবো’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তেহরান মার্কিন নেতৃত্বকে নিশানা করছে অভিযোগ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা মার্কিন নেতাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি তাদের প্রতিটি তালিকায় আছি। তারা অত্যন্ত দুষ্ট ও অসুস্থ মানুষ। আমাদের এই ক্যানসার থেকে মুক্তি পেতে হবে।’

সূত্র: উইয়ন নিউজ