মোজতবার আপস না নিয়ন্ত্রণ, ইরানে শীর্ষ পদে কট্টরপন্থিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও তার শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আবহেই রবি ও সোমবার সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীতে বড় ধরনের রশদ-বদল এনে কট্টরপন্থিদের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, তিনি বেঁচে থাকলেও গুরুতর আহত। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি আহত হলেও সুস্থ আছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলা বিরোধে নতি স্বীকার না করার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান-এর বিশেষজ্ঞ কাসরা আরাবি বলেন, সরকার দেশে ও বিদেশে আরও মুখোমুখি অবস্থানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নতুন পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব মহসেন রেজাই, যিনি আগে রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) দীর্ঘমেয়াদি প্রধান ছিলেন। পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদিকে আইআরজিসির নতুন প্রধান এবং হোসেন তায়েবকে আন্দোলন দমনকারী বাসিজ বাহিনীর প্রধান করা হয়েছে। এই নতুন কর্মকর্তারা যুদ্ধেই নিহত পূর্বসূরিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। রেজাইকে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

৭১ বছর বয়সী রেজাই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে কোনও ধরনের ছাড় দিতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সেখানে কোনও করিডোর অনুমোদন করা হবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির ফেলো সিনা তুসি মনে করেন, আইআরজিসির সাবেক প্রধান হিসেবে রেজাই সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে সক্ষম।

১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া রেজাই ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ১৬ বছর এর প্রধান ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এক ইহুদি কেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ তাকে অভিযুক্ত করেছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদের সময়ে তিনি রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়েছেন।

ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাঈদ গোলগার মনে করেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে যারা যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার পক্ষে ছিলেন, তাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক বেনাম বেন তালেবলু এই পরিবর্তনকে কটাক্ষ করে বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক যেন কেবল টাইটানিকের বধির চেয়ারগুলো সাজিয়ে পুনর্গঠন করছে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল