প্রায় দুই দশকের মধ্যে ফিলিস্তিনে প্রথম নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা ফের পিছিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ফিলিস্তিনি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের ভোট প্রায় এক বছর পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শুক্রবার একটি ডিক্রি জারি করেছেন তিনি। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত থাকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পুনরায় স্থগিতের এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা শীর্ষ নেতারা চ্যালেঞ্জহীন রয়ে গেলেন। এতে করে সাধারণ ফিলিস্তিনি ও অনুদান প্রদানকারী দেশগুলোর কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) গ্রহণযোগ্যতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মূলত আব্বাসের দল ফাতাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নব্বইয়ের দশকের চুক্তির পর থেকে তারা ইসরায়েল-অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পরিচালনা করে আসছে। তবে আব্বাসের শাসনামলে এটি ক্রমান্বয়ে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক ফিলিস্তিনি এই সংস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে এর নিরাপত্তা সহযোগিতার তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
ভোট স্থগিত করার বিষযে আলোচনার জন্য শনিবার সকালে শীর্ষ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের একটি কমিটির বৈঠকের পর এই ডিক্রি আসে। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটি, যার প্রধান আব্বাস নিজে, এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর এবং গাজা ভূখণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনুকূল নয়। ইসরায়েল নির্বাচন সামগ্রী বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদোয়ন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আব্বাসের ‘ইসরায়েলকে এর মধ্যে টেনে আনার চেষ্টা এবং নির্বাচন আয়োজনে ইসরায়েল বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মিথ্যা দাবি করাটা মূলত জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা থেকে এড়ানোর জন্য আরেকটি হাস্যকর মিথ্যা’।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক জিহাদের উপ-মহাসচিব মোহাম্মদ আল-হিন্দি জানান, কায়রোতে রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি দল নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে আলোচনা করার পর এই পদক্ষেপটি প্রত্যাশিতই ছিল।
হামাস নির্বাচন স্থগিতের ঘটনাকে ‘সঠিক দিকের একটি পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনা ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং পরবর্তী তারিখে নির্বাচন আয়োজনের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনও আইনসভা নির্বাচন হয়নি। সে বছর হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করার পর ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সরকারকে বয়কট করে। এর ফলে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে পরের বছর গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। গত দুই দশক ধরে ক্ষমতা বিভক্ত হয়ে আছে- গাজায় হামাস এবং পশ্চিম তীরে আব্বাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ক্ষমতায় রয়েছে।
উল্লেখ্য ২০০৫ সাল থেকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদ আব্বাস এবং তার এই দীর্ঘ মেয়াদে তিনি একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন স্থগিত করেছেন।