মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্যও জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, আমি পরামর্শ দেব তাদের (ইউক্রেন) এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নেওয়া উচিত যিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন। কারণ তিনি অনেকগুলো চুক্তি করতে পারতেন, কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে তিনি তা কখনোই করেননি।
রিপাবলিকান ভোটারদের প্রচারণায় টেনেসি রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি বিশ্বের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চান। তিনি ডিজেল জ্বালানি নিয়ে আমাদের কৃষক ও খামারিদের জন্য সংকট তৈরি করতে চান।
তবে রাশিয়ার কাছ থেকে ট্রাম্পের ডিজেল কেনার এই চুক্তিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এই অর্থ রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতায় থাকলে এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হতো না। তিনি বলেন, ‘অদক্ষতার কারণেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে’। আপনারা দেশের ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড হারিয়েছেন এবং দুই পক্ষ মিলে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না। আর তাই আমি মনে করি, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।
তবে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ রুশ সৈন্য নিহত হয়েছেন, তবে ইউক্রেনীয়দের প্রাণহানির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক কোনও হিসাব পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল কেনার একটি চুক্তি সই করেন ট্রাম্প। এর পর থেকেই তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের তাগিদ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়লেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড ডিজেল মূল্যের জন্য ইরান যুদ্ধের পরিবর্তে ইউক্রেনকেই দোষারোপ করছেন।
সূত্র: এপি
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা ‘ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য’, হুথিদের নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ