গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে তথ্য জালিয়াতি ও সত্য গোপনের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইউনিটের সাবেক সদস্য আয়েলেট ক্রোইজার। গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞাপনী বার্তা ও তথ্য কীভাবে পরিবর্তন করা হতো, তার বিবরণ দিয়েছেন তিনি।
আয়েলেট ক্রোইজার জানান, অভ্যন্তরীণ সমর্থন বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের নিয়মিত ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ফিলিস্তিনে সামরিক নির্যাতনের বিবরণ নথিভুক্তকারী ইসরায়েলি সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স-এর নতুন মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এক্স হ্যান্ডেলে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
ক্রোইজার লিখেছেন, সামরিক সেবার সময় আমি গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্য নিয়ে কারসাজি করেছি। এমনকি নির্দোষ ফিলিস্তিনিদের গায়েও ‘সন্ত্রাসী’ তকমা লাগিয়ে দেওয়া হতো। লক্ষ্য ও নির্দিষ্ট শ্রোতা অনুযায়ী বিবৃতিগুলো সাজানো হতো।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইউনিটকে একটি জনসংযোগ (পিআর) ফার্মের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, জনগণের জানার অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে সামরিক বাহিনীর প্রতি আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করাই ছিল মূল কাজ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য পাঠানো বার্তার ক্ষেত্রেও সত্য গোপন করা হতো।
একক হামলায় বহু মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে ক্রোইজার লিখেছেন, একক হামলায় ডজন ডজন প্রাণহানির খবর দেওয়ার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বাক্য যোগ করার নিয়ম শিখেছিলাম, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির জন্য আমরা অনুতপ্ত’। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই আমার অভ্যাস, অথচ সেখানে আমাকে সেই অন্যায়েরই পিআর করতে বলা হয়েছিল।
ধর্মীয় ছাড় না নিয়ে তিন বছর আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ক্রোইজার অন্যান্য সেনাদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘যুদ্ধের সময় সেবা দিয়ে থাকলে আপনারাও চুপ থাকবেন না।’
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত এবং শতকরা ৯০ ভাগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড