ফ্যাশন রেভুলিউশন দিবসে ৮০ টি দেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কর্মসূচি পালন করা হবে। দিবসটিতে পোশাক ও পণ্য কোম্পানির প্রতি ভোক্তাদের নৈতিক অধিকার রক্ষার প্রতি জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে। এ লক্ষ্যে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে চালু হয়েছে একটি প্রচারণাও। #whomademyclothes হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে অনেকে তাদের মতামত তুলে ধরছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে টুইটার ট্রেন্ডের শীর্ষে অবস্থান করছে হ্যাশট্যাগটি। এ প্রচারণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পোশাক ও ব্যক্তি সেলফি তুলে তা প্রকাশ করছেন। সব সেলফিতে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, কে আমার পোশাকটি তৈরি করেছেন।
আরও পড়ুন: রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের সেই নায়কেরা
গত বছর রানা প্লাজা ধসের ২য় বার্ষিকীতে দিনটিকে ফ্যাশন রেভুলিউশন দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়। গত বছর এই হ্যাশট্যাগটি ৬৩ মিলিয়ন বার টুইটারে ব্যবহার করা হয়েছিল। এ বছর তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতালির একটি স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে লেখা হয়েছে, ‘স্বল্পমূল্যের ফ্যাশন পণ্য এমনি এমনি আসে না। এটার জন্য কাউকে না কাউকে মূল্য দিতে হচ্ছে’। এই ছবির সঙ্গে স্ট্যাটাসে রানা প্লাজা ধসে শ্রমিকদের তুলে ধরে বলা হয়েছে, ফ্যাশন শিল্পকে আরও নৈতিক ও সতর্ক হতে হবে। কারা পোশাক তৈরি করছে তা জানতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: রানা প্লাজা: তিন বছরেও মেলেনি ১১৩৬ হত্যাকাণ্ডের বিচার
শিল্পা হাইল্যান্ড নামক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, যারা আমার পোশাক তৈরি করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
টুইটার ফেসবুক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে ফ্যাশন রেভুলিউশন দিবসের কথা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে। সব প্রতিবেদনেই রানা প্লাজা ভবন ধসের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ফ্যাশন শিল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ফ্যাশন স্বচ্ছতা সূচক প্রকাশের জন্য ইতিক্যাল কনজ্যুমারের সঙ্গে কাজ করছে ফ্যাশন রেভুলিউশন। সম্প্রতি তাদের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে চ্যানেল, প্রাদা, ফরএভার ২১, এলভিএমএইচ, মাইকেল কর্স ও হেমারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পোশাক সরবরাহকারীদের সম্পর্কে খুব কমই জানে।
আরও পড়ুন: রানা প্লাজা ট্রাজেডির তিন বছর
প্রকাশিত সূচক অনুসারে, যারা তাদের পোশাক সরবরাহ করছে তাদের সম্পর্কে এসব কোম্পানি খুব কমই জানে। এ সম্পর্কিত কোনও তথ্য তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তারা মানুষকে জানায় না। তারা শুধু একটি কোড অব কন্টাক্ট সই করেই দায়িত্ব শেষ করে। গত বিশ বছরে কর্পোরেট রেসপন্সসিভিলিটি অনেক উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছালেও এসব কোম্পানি এখনও তা শুরু করার পর্যায়ে রয়েছে।
ফ্যাশন রেভুলিউশন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্যারি সোমার্স বলেন, বেশিরভাগ মানুষই জানেন না ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিল্পে মানুষ ও পরিবেশগতভাবে নিপীড়িত হচ্ছে। তারা যেসব পোশাক পরছেন তা যে শোষণমূলক উপায়ে তৈরি হচ্ছে তাও জানেন না অনেকেই।
তিনি আরও বলেন, রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনাগুলো এড়ানো যায়। এজন্য পোশাক সরবরাহকারীদের তাদের গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রভাব সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। ভোক্তা হিসেবে আমাদের অনেক শক্তি রয়েছে। আমাদের জানতে হবে কীভাবে তাকে কাজে লাগানো যায়। সূত্র: প্লানেট এক্সপার্টস ডট কম, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ফ্যাশন রেভুলিউশন ডট ওআরজি।
/এএ/