ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন বাহিনী জানায়, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের এই সংঘাতে স্থলযুদ্ধে সরাসরি সেনা মোতায়েন না থাকলেও প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির কারণে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর সংঘাত তীব্র হওয়ায় অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বিকাল পর্যন্ত জর্ডানে সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনায় তিনি কোনও বিবৃতি দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পরিবর্তে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন, যা সংঘাত শুরুর পরপরই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। তারা আইওয়াভিত্তিক একটি সরবরাহ ও লজিস্টিক ইউনিটের সদস্য ছিলেন এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাবিহীন একটি শিপিং কনটেইনারধর্মী ভবনে কাজ করছিলেন।
এরপর ১ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত হওয়া আরেক সেনা এক সপ্তাহের বেশি সময় পর মারা যান। মার্চের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানিবাহী বিমান ইরাকে বিধ্বস্ত হলে ছয় সেনাসদস্য নিহত হন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ‘বন্ধুসুলভ’ আকাশসীমায় অন্য একটি বিমানের সঙ্গে অনির্দিষ্ট একটি ঘটনার পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হয়েছেন। নৌবাহিনী প্রথমে ১ জুলাইয়ের ঘটনাটিকে জরুরি অবতরণ হিসেবে বর্ণনা করে এবং জানায়, এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেছে এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। হেলিকপ্টারে থাকা বাকি তিন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সেন্টকম জানায়, জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই হামলার পর আরও একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত নিহতদের নামসহ অতিরিক্ত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হবে না।