২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের বা ৯/১১ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের দুই দশক আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি বাতিল করেছেন এক মার্কিন সামরিক বিচারক। এফবিআই এজেন্টদের কাছে দেওয়া ওই জবানবন্দি খালিদ স্বেচ্ছায় দেননি উল্লেখ করে গত শুক্রবার (১৮ আগস্ট) বিচারক এই রায় প্রদান করেন।
কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে মার্কিন সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তটিকে নতুন এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা খালিদসহ চার আসামির বিচারে আগামী ২০২৮ সালের জুন মাস নির্ধারণ করার মাত্র কয়েক দিন পর এই আদেশ দিলেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে না আসা ওই আদালত আদেশে দেখা যায়-২০০৭ সালের জানুয়ারিতে গুয়ান্তানামোতে এফবিআই-এর চার দিনের টানা জেরার মুখে খালিদের দেওয়া জবানবন্দি বাতিল করেছেন বিচারক শ্রামা। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, এর আগে সিআইএ-এর হাতে খালিদের ওপর চলা নির্যাতন ও আচরণ তার পরবর্তী স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছায় দেওয়া ছিল কি না, সেই বিষয়টিকে প্রভাবিত করেছে।
খালিদকে ২০০৩ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং সিআইএ-এর গোপন বন্দীশিবিরে রাখা হয়। সেখানে তাকে ওয়াটারবোর্ডিংসহ নানা ধরনের নির্যাতনমূলক জেরা পদ্ধতির মুখোমুখি হতে হয়, যা সর্বজনীনভাবে নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত।
বিচারক শ্রামা বলেন, সিআইএ-এর নির্যাতনের কারণে খালিদের মধ্যে এমন ভীতির সঞ্চার হয়েছিল যে, তিনি জেরাকারীদের সহযোগিতা না করলে আবারও চরম নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হবেন। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, খালিদকে নিজের নীরব থাকার অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়নি এবং তিনি কোনও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছিল।
প্রসিকিউটরদের জন্য খালিদের এই স্বীকারোক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আদালত সিদ্ধান্তটি সরকারি মামলার বিচারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রসঙ্গে মামলাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যারন সি রুগ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা সরকার ‘নিকট ভবিষ্যতে’ সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে খালিদকে জেরা করা এফবিআই এজেন্টদের একজন আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই এজেন্ট ফ্রাঙ্ক পেলেগ্রিনো সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন খালিদ স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন।
প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে উড়োজাহাজ ছিনতাই করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরির অভিযোগ রয়েছে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে তাকেও গুয়ান্তানামো বে-তে বন্দী রাখা হয়েছে। তবে সাক্ষ্য-প্রমাণ, জেরার পদ্ধতি এবং সামরিক কমিশন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় মামলাটি আটকে রয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিচারক শ্রামা আগামী ২০২৮ সালের ৫ জুন বিচারের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে আদালতের এই সর্বশেষ রায়ের ফলে বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই প্রমাণ সংক্রান্ত আরেকটি বড় আইনি বাধা কাটাতে হবে।
বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হলে খালিদ শেখ মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। খালিদ এবং অন্য দুই আসামি ২০২৪ সালে একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তারা মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারতেন। তবে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন তা বাতিল করে দেন এবং পরবর্তীতে একটি আপিল আদালতও সেই সমঝোতা চুক্তিটিকে বাতিল ঘোষণা করেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ