ডেঙ্গু রোগী সামাল দিতে ফিল্ড হাসপাতালের পরিকল্পনা

দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রোগীর চাপ সামাল দিতে ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ তৈরির পরিকল্পনাও করছে সরকার। শয্যা বাড়াতে ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে এখনও বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে আছে বলে জানান তিনি।

হু হু করে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন প্রতিদিন নতুন মোড় নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯০২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন ৯ জন। কিন্তু উদ্বেগের কারণ শুধু সংখ্যা নয়, সংক্রমণের গতিপথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। গত জুনে ভর্তি ছিলেন ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাইয়ে বেড়ে ৯ হাজার ২০৬ জন, আর আগস্টে এক লাফে ২০ হাজার ৫৩৬ জন, তার থেকেও বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনে দাড়ায়—  যা এ বছরের সর্বোচ্চ। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ১৫.০৬ গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ভর্তি ৮৮ হাজার ৩৬০ জন, যা গত বছরের একই সময়ের ৪৮ হাজার ৪৯১ জনকে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ গতবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগী বেড়েছে। মৃত্যুও একই গতিতে বাড়ছে। জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন মারা গেছেন ডেঙ্গুতে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৭১ জন, যা গতবছরের একই সময়ের ২০২ জনের চেয়ে বেশি।

সূত্র বলছে, গত রবিবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর করনীয় নির্ধারণ করা হয়। ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামালতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ফিল্ড হাসপাতালের প্রস্তাব দেওয়া হয়।।

গত মে মাসে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ কম্পাউন্ডের ভেতরেই একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল সেনাবাহিনীর সহায়তায় তৈরি করা হয়। সেটিকে আবার পুনরায় চালু করার কথা ভাবছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।