ঢামেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দীপু মনি আবার কারাগারে

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলু জানান, কারাগারে অসুস্থবোধ করায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

তিনি জানান, ‘জরুরি বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দীপু মনিকে মেডিসিন বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।’

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, দীপু মনি আগে থেকেই কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে তার নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। সোমবার রাত দেড়টার দিকে তিনি কিছুটা অসুস্থবোধ করলে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়।

এর আগে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কিডনি, থাইরয়েড ও অ্যালার্জিজনিত রোগ রয়েছে দীপু মনির। তার শারীরিক অবস্থা খুব বেশি আশঙ্কাজনক না হলেও চিকিৎসকরা আরও ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন মনে করায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে তার অবস্থা ততটা সংকটাপন্ন নয়।

দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আগে দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্র ও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

জুলাই আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরাও রয়েছেন। অনেকেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দীপু মনিও।