জুলাই আন্দোলনের পৃথক দুই হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বনানীর সোহাগ নামে এক কিশোরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়।
এছাড়া ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মিরপুরে মো. মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় একই আদেশ দিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই জুয়েল সরকার ২৪ আগস্ট এবং মিরপুর থানার এসআই আজিজুল হক ২৫ আগস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার (৩১ আগস্ট)।
এদিন শুনানিকালে শাহজাহান ওমরকে আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় শাহজাহান ওমরকে দেখে কয়েকজন ‘মীর জাফর’ বলে সম্বোধন করেন। ভুয়া, ভুয়া বলে ডাকতে থাকেন।
প্রথমে তাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নেওয়া হয়। ওই আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন তাকে দেখে বলেন, ‘মীর জাফর, মীর জাফর যায়। ভুয়া, ভুয়া।’
ওই আদালতে হাজিরা দিতে আসা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা মহসিন শেখ বলেন,' ‘তার জনপ্রিয়তা ছিল বিএনপির জন্য। সুযোগ বুঝে বিএনপি থেকে সরে গেছে। যুগে যুগে মীর জাফরদের অবস্থা এমনই হয়। তার কি এখন কাঠগড়ায় থাকার কথা ছিল। তার থাকার কথা ছিল সংসদে। মীর জাফরীর কারণে আজ কারাগারে।’
পরে শুনানি নিয়ে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়।
এরপর শাহজাহান ওমরকে নেওয়া হয় সেফাতুল্লাহর আদালতে। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে ওই মামলায়ও গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়।
মুক্তার হোসেন হত্যাচেষ্টার মামলায় বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মিরপুর-১০ এ সুইমিং পুল ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে রাস্তায় অবস্থান করেন মো. মুক্তার হোসেন। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে আহত হন তিনি। এরপর তাকে এলোপাথারী মারপিট করা হয়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে পরে তিনি মামলা দায়ের করেন।
সোহাগ হত্যাচেষ্টার মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে বুকে দুটি গুলি লাগে তার। সোহাগকে উদ্ধার করে মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। পরে তাকে শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক অপারেশন করে একটি গুলি বের করেন। অপর গুলিটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপারেশন করে আরেকটি গুলি বের করা হয়। ২১ জুলাই সোহাগের বাসায় গিয়ে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় সোহাগের বাবা বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।