রুটি চুরির অভিযোগে ছিন্নমূল শিশুকে মারধর, নিরাপত্তাকর্মী আটক

রাজধানীর মিরপুরে রুটি চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে ছিন্নমূল শিশুকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তির নাম— রিপন মন্ডল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের এডিসি সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া।

পোস্টে রিপন মন্ডলের ছবি দিয়ে এডিসি সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া লিখেছেন, ‘ধৃত লোকটির নাম রিপন মন্ডল। গত পরশু সে রাতে মিরপুর ১ নাম্বারে একটি বাচ্চা মেয়েকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছিল। এখন সে পুলিশ হেফাজতে আছে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’ 

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আইনের শাসন মানতে হবে। যেকোনও ধরনের নির্মমতার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যাবে। কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’ 

এর আগে রবিবার (৫ অক্টোবর) থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছিন্নমূল শিশুকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার দুপুরে ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন খান সায়ের।

ভিডিওটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘মিরপুর এলাকার কোনও একটি মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী এক টুকরো রুটি চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে এক মেয়েশিশুকে মারধর করছেন। এক পথচারী শিশুটিকে থামাতে এগিয়ে গেলে আরেকজন পথচারী তাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেন।’ 

তিনি বলেন, ‘অপরাধ যাই হোক না কেন, কাউকে নির্যাতন করার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ।’ 

১৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মার্কেটের সামনের রাস্তায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে নেভি ব্লু শার্ট ও কালো রঙের ফুলপ্যান্ট পরা ব্যক্তি এক হাত দিয়ে শিশুটির একটি হাত ধরে আছেন। অন্য হাতে থাকা বেল্ট দিয়ে নির্দয়ভাবে শিশুটিকে পেটাচ্ছেন তিনি। পাশ দিয়ে ছুটে চলছে যানবাহন। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন দেখছেন নীরবে। একপর্যায়ে কয়েকজন কিশোর শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকে টেনে মার্কেটের দিকে নিয়ে যান ওই ব্যক্তি।

পুলিশ বলছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িত রিপন মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে। তিনি মিরপুর শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তাকর্মী। বর্তমানে পুলিশের পাহারায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

দারুসসালাম থানার ওসি মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি নজরে আসার পর পুলিশ খোঁজ নেওয়া শুরু করে। শনাক্ত করা হয় রিপন মণ্ডলকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’

রিপন মণ্ডল পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, শিশুটি মার্কেটের একটি দোকান থেকে মুঠোফোন চুরি করেছে। এ জন্য তিনি তাকে পিটিয়েছেন। রবিবার বিকালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ওসি দুলাল হোসেন বলেন, ‘রিপন মণ্ডলের কথা সত্য কিনা, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তাকে হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। সুস্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পথশিশুটির খোঁজ চলছে।’