ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদে যেমন মাংসের বিভিন্ন আইটেম থাকবে, তেমনি থাকবে মিষ্টি খাবারের আয়োজনও। কী কী রাঁধবেন সেটা ঠিক করে ফেলুন এখনই। ঈদ উপলক্ষে কয়েকটি রেসিপি জেনে নিন।
১। মঙ্গোলিয়ান বিফ
আধা কেজি মাংস পাতলা স্লাইস করে কেটে নিন। স্লাইস যত পাতলা হবে, রান্নাও হবে তত দ্রুত ও সুস্বাদু। একটি জিপলক ব্যাগে মাংস ও ১/৪ কাপ কর্নফ্লাওয়ার ভরে ভালোভাবে মেখে নিন। মাংসের সব দিকে যেন সমানভাবে কর্নফ্লাওয়ার লাগে।
বড় একটি ফ্রাইং প্যানে তেল দিন। মাঝারি আঁচে গরম করুন। ব্যাগ থেকে স্লাইসগুলো নিয়ে প্যানে দিন। মাংসের সঙ্গে বাড়তি কর্নফ্লাওয়ার লেগে থাকলে তা আগেই ঝেড়ে ফেলুন। ভাজার সময় একটার সঙ্গে আরেকটা স্লাইস যেন লেগে না থাকে। প্যান ছোট হলে প্রয়োজনে দুইবার করে ভাজুন। ভাজা হলে মাংস উঠিয়ে ওই একই প্যানে ২ টেবিল চামচ আদা কুচি ও ১ টেবিল চামচ রসুন কুচি দিয়ে ১৫ সেকেন্ড নেড়ে নিন। এরপর ১/৩ কাপ সয়াসস, ১/৩ কাপ পানি ও ১/২ কাপ ব্রাউন সুগার দিয়ে দিন। পানি ফুটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ভাজা মাংসের স্লাইসগুলো দিন। মিনিটখানেক রান্না করুন। মাংসে থাকা কর্নফ্লাওয়ারের কারণে সস ঘন হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত ঘন না হলে ১ টেবিল চামচ ঠান্ডা পানিতে এক টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে দিয়ে দিন। সঙ্গে পেঁয়াজ পাতা কুচি ছড়িয়ে নেড়েচেড়ে দিন। মাঝারি আঁচে মিনিটখানেক রান্না করুন। পরিবেশন করুন গরম গরম।
২। চুলায় তৈরি গরুর মাংসের শিক কাবাব
হাড় ও চর্বি ছাড়া আধা কেজি সলিড মাংস দুই থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিন। পাতলা করে কাটবেন মাংস। আধা কাপ পেঁয়াজের বেরেস্তা ও ১/৩ কাপ টক দই একসঙ্গে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটি দিয়ে দিন মাংসে। ১ চা চামচ ধনিয়ার গুঁড়া, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা চামচ, গরম মসলার গুঁড়া আধা চা চামচ, সামান্য জয়ফল গুঁড়া, সামান্য জয়ত্রী গুঁড়া, স্বাদ মতো লবণ ও মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচের গুঁড়া ১/৩ চা চামচ, ১ টেবিল চামচ আদা বাটা, আধা চা চামচ
রসুন বাটা, কাঁচা পেঁপে বাটা ৩ টেবিল চামচ (খোসাসহ) ও ৩ টেবিল চামচ সরিষার তেল দিয়ে মাংস মেখে নিন ভালো করে। মসলার মিশ্রণ মাখা মাংস ঢেকে ফ্রিজে রেখে দিন ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত।
যে কাঠিতে মাংস গাঁথবেন সেটা ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। বাঁশের কাঠি না হয়ে যদি মেটালের কাঠি হয়, তাহলে প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে সামান্য তেল মেখে নিন কাঠিতে। মাংসের টুকরা কাঠিতে গেঁথে নিন। মাংস ছিদ্র করে কাঠিতে ঢুকিয়ে টুইস্ট করে ঘুরিয়ে পরের অংশ গাঁথবেন। এতে সহজে কাঠি থেকে খুলে আসবে না মাংস। মাংস গাঁথা হয়ে গেলে যে মসলাটুকু বেঁচে থাকবে, সেটা ফেলে দেওয়ার দরকার নেই।
প্যানে সরিষার তেল গরম করুন। খুব সামান্য তেলে ভাজতে হবে কাবাব। তেল গরম হলে একটি একটি করে শিক দিয়ে দিন প্যানে। চাইলে ওভেনেও করা যায় এই কাবাব। এজন্য ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট ধরে বেক করতে হবে। অতিরিক্ত মসলা এই পর্যায়ে চামচের সাহায্যে কাবাবের উপরে দিয়ে দিন। এক পাশ ভাজা হয়ে গেলে আরেক পাশ ভেজে নিন। দুই পাশ ভালো করে ভাজা হলে নামিয়ে নিন।
এক টুকরা কয়লা চুলার মাঝে রেখে গরম করুন। গরম হয়ে গেলে শিক কাবাবের প্যানের ঠিক মাঝখানে একটি ফয়েল পেপার বিছিয়ে সেখানে রাখুন। কয়লার উপর সামান্য একটু তেল ঢেলে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন প্যান। কয়লা থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় ৫ থেকে ৬ মিনিট রেখে দিন শিক কাবাব। হোটেলের মতো স্মোকি একটি গন্ধ পাওয়া যাবে কাবাব থেকে। তৈরি হয়ে গেল একদম হোটেলের মতোই সুস্বাদু শিক কাবাব! পরিবেশন করুন গরম গরম, নান রুটি কিংবা পরোটার সঙ্গে।
৩। চুই ঝাল দিয়ে গরুর মাংস
১ কেজি গরুর মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। প্রেসার কুকারে সরিষার তেল দিয়ে গরম মসলার ফোঁড়ন দিন প্রথমে। এরপর ২ কাপ পেঁয়াজ কুচি, ২ টেবিল চামচ আদা বাটা, ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা, স্বাদ মতো মরিচের গুঁড়া ও লবণ, লম্বা করে কাটা চুই ঝাল ৬টি, ১ চা চামচ জিরা বাটা, ১ চা চামচ ধনিয়া বাটা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন মাংস। অল্প পানি দিয়ে প্রেসার কুকারে ৩ থেকে ৪টা সিটি দিন। নামিয়ে ১৫ কোয়ার মতো আস্ত রসুন দিয়ে আরও ১০ মিনিট রান্না করুন। তেল উঠে আসলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন চুল ঝাল দিয়ে গরুর মাংস।
৪। আমের ডেসার্ট
১ কাপ দুধ স্বাদ মতো চিনি দিয়ে জ্বাল দিন। ১০ মিনিট নাড়বেন অনবরত। দুধ ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ঘন দুধ ও আধা কাপ পাকা আম ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। আধা কাপ ঠান্ডা হুইপড ক্রিম ভালো করে বিট করুন বিটার দিয়ে। ফুলে উঠলে ১/২ চা চামচ ম্যাংগো এসেন্স ও ব্লেন্ড করে রাখা মিশ্রণ দিয়ে দিন। আবারও বিট করুন। ১/৪ কাপ আমের কুচি দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নিন। গ্লাসে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার ডেসার্ট।
৫। ব্রেড মালাই
২ কাপ দুধ জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে ১/৪ কাপ চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। চিনি গলে গেলে জ্বাল কমিয়ে দিন। ১/৪ কাপ স্বাভাবিক তাপমাত্রার দুধের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ কাস্টার্ড পাউডার মিশিয়ে সেটা ঢেলে দিন গরম দুধে। অনবরত নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে বাদাম কুচি ছিটিয়ে আরও দুই মিনিট চুলায় রেখে নামিয়ে ফেলুন।
একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ মালাই, ২ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ ও ১ টেবিল চামচ পাউডার সুগার দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নিন। পাউরুটির চারপাশের শক্ত অংশ ছুরি দিয়ে কেটে ফেলুন। মালাইয়ের মিশ্রণ পাউরুটির একদিকে লাগিয়ে উপরে আরেক স্লাইস পাউরুটি বসিয়ে দিন। কোণাকুণি করে কেটে চার টুকরা বের করুন। টুকরাগুলো একটি বড় প্লেটে রেখে উপরে ঢেলে দিন দুধের মিশ্রণ। উপরে বাদাম গুঁড়া ছিটিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।