দশমীর দুপুরে বাসন্তী পোলাও আর মাটন রোগান জোশ

পুজোর কয়দিন মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে একেবারেই বাড়িতে খাওয়া হয় না বললেই চলে। দশমীর দিন সবার ছুটি থাকার কারণে বেশ জম্পেশ খাবারের আয়োজন করলে মন্দ কি। এই আয়োজনে বিশেষত্বের জন্য বানিয়ে ফেলুন বাসন্তী পোলাও আর মাটন রোগান জোশ। শুনতে কঠিন মনে হলেও খুব সহজ উপকরণ দিয়ে আপনি এসব বানাতে পারেন নিজ ঘরে।

বাসন্তী পোলাও

এটি বাঙালির একেবারে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের খাবার। এতে সাদা চাল ঘি, হলুদ আর মিষ্টি–ঘ্রাণে ভরে ওঠে চারপাশ।

উপকরণ

বাসমতী/কালিজিরা চাল ২ কাপ

ঘি ৩–৪ টেবিল চামচ

গুঁড়ো হলুদ– আধা চা চামচ (হালকা হলুদ রঙ আনতে)

কাজুবাদাম ১০–১২টা

কিশমিশ ১৫–২০টা

দারুচিনি ২ টুকরো

এলাচ ৪টা

লবঙ্গ ৪টা

তেজপাতা ১টা

চিনি ৪ টেবিল চামচ (স্বাদমতো)

লবণ ১ চা চামচ

গরম পানি প্রায় ৪ কাপ

প্রস্তুত প্রণালী

চাল ভালো করে ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পানি ঝরিয়ে নিন। এবার কড়াইতে ঘি গরম করে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ দিয়ে ভেজে নিন। কাজু ও কিশমিশ দিয়ে হালকা ভেজে তুলে রাখুন। এখন চাল দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ঘ্রাণ আসে। গুঁড়ো হলুদ, লবণ, চিনি দিয়ে নেড়ে গরম পানি দিন। আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। চাল নরম হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে কাজু–কিশমিশ মিশিয়ে নামিয়ে নিন। শেষে একটু ঘি দিয়ে আবার ঢেকে দিন।

মাটন রোগান জোশ

বাসন্তী পোলাও-এর সাথে মাটন রোগান জোশ। এটি মূলত কাশ্মীরি রান্নার একটি জনপ্রিয় মাংসের কারি যা লাল রঙের, তেল/ঘি–প্রধান, মসলা সমৃদ্ধ এবং ঘ্রাণযুক্ত হয়।

উপকরণ

মাটন ৫০০ গ্রাম (হাড়সহ টুকরা করা)

পেঁয়াজ ২টি (বড় করে কেটে সোনালি ভাজা)

আদা–রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ

গরম মসলা ১ চা চামচ

লাল মরিচ গুঁড়া ১–২ চা চামচ (রঙ ও ঝাল জন্য)

হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ

দই আধা কাপ (ফেটানো)

তেল/ঘি ৪–৫ টেবিল চামচ

লবণ স্বাদমতো

দারুচিনি ২ টুকরো

এলাচ ৪–৫টি

লবঙ্গ ৪টি

তেজপাতা ১টি

পানি ২ কাপ

ধনেপাতা কুচি (সাজানোর জন্য)

প্রস্তুত প্রণালী

মাটনের টুকরোগুলোতে লবণ, হলুদ, লাল মরিচ, দই এবং ১ চা চামচ আদা–রসুন মাখিয়ে ৩০ মিনিট মেরিনেট করুন। কড়াইতে তেল/ঘি গরম করে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও তেজপাতা হালকা ভেজে নিন। পেঁয়াজ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। এরপর মেরিনেট করা মাটন দিয়ে ৫–৭ মিনিট ভেজে নিন। বাকি ফেটানো দই মাংসের সাথে ভালোভাবে মেশান। পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে ঢেকে মাংস নরম হওয়া পর্যন্ত কম আঁচে রান্না করুন। শেষমেশ গরম মসলা দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। রোগান জোশের স্বাদ ও রঙের জন্য লাল মরিচ গুঁড়া ও ঘি বেশি ব্যবহার করা যায়।  চাইলে একটু জাফরান বা কাজুবাদাম দিয়ে সাজাতে পারেন।