ভুলে যাওয়া টাকারও দিন আছে! আজ পেনশন খুঁজে দেখার পালা

পুরনো চাকরির কথা মনে আছে, অথচ সেই চাকরির পেনশনের কথা মনে নেই! মাঝখানে বদলে গিয়েছে কাজ, অফিস, এমনকী বাসার ঠিকানাও। আর সেই সঙ্গে কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছে অবসরের জন্য জমানো টাকার হিসাব। ভাবছেন, এমন আবার হয় নাকি? হয় বইকি! বহু মানুষই চাকরি বদলাতে গিয়ে পুরনো পেনশনের খোঁজ হারিয়ে ফেলেন। সেই ভুলে যাওয়া সঞ্চয়ের সন্ধান দিতেই রয়েছে একটি বিশেষ দিবস— পেনশন ট্রেসিং ডে। দিনটির মূল বার্তা, পুরনো কাগজপত্র একটু ঘাঁটলেই হয়তো বেরিয়ে আসতে পারে আপনারই প্রাপ্য টাকা!

যুক্তরাজ্যে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে পালিত হয় এই দিবস। ২০২১ সালে আর্থিক পরিষেবা সংস্থা পন্টার সাউথহল এই সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করে। পরে লিগ্যাল অ্যান্ড জেনারেল, স্কটিশ উইডোজ, স্ট্যান্ডার্ড লাইফ ও এগনের মতো পেনশন প্রদানকারী সংস্থা এর সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০২৪ সালে প্রচারাভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নেয় কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে পরামর্শদানকারী সংস্থা সেকেন্ডসাইট। পরবর্তী সময়ে অ্যাভিভা, স্মার্ট পেনশন, রয়্যাল লন্ডন ও দ্য পিপলস পেনশনের মতো সংস্থাও এই উদ্যোগে যোগ দেয়।

কিন্তু হঠাৎ পেনশন খুঁজে বের করার জন্য আলাদা একটা দিন কেন? কারণ, চাকরি বদলানোর সময় অনেকেই আগের কর্মস্থলের পেনশন প্রকল্পের কথা ভুলে যান। কেউ পুরনো নথিপত্র হারিয়ে ফেলেন, কারও আবার ঠিকানা বদলে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র আর হাতে পৌঁছায় না। এভাবেই বছরের পর বছর পড়ে থাকে অবসরকালীন সঞ্চয়, অথচ মালিক তার খবরই রাখেন না। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এমন বহু পেনশন অ্যাকাউন্টের অর্থ এখনও দাবিহীন অবস্থায় রয়েছে, যার মোট মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।

এই দিবসের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে মজার একটি ভাবনাও। যুক্তরাজ্যে অক্টোবরের শেষ দিকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সেই বাড়তি সময়টুকু পুরনো পেনশনের খোঁজে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। অর্থাৎ, বাড়তি এক ঘণ্টা শুধু ঘুমিয়ে কাটাবেন, নাকি নিজের ভবিষ্যতের জন্য একটু খোঁজখবর নেবেন সিদ্ধান্ত আপনার!

পেনশন খোঁজার কাজ শুরু করতে প্রথমেই মনে করুন, জীবনে কোথায় কোথায় চাকরি করেছেন। পুরনো বেতন-স্লিপ, পেনশনের বিবরণী কিংবা চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র খুঁজে দেখুন। অল্প দিনের চাকরি হলেও সেখানে পেনশন সুবিধা ছিল কি না, তা যাচাই করুন। কারণ, চাকরির মেয়াদ কম হলেই যে কোনও সঞ্চয় তৈরি হয়নি, এমনটা নয়।

যদি একাধিক পুরনো পেনশনের সন্ধান পান, তা হলেই সব এক জায়গায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগে দেখে নিন, কোন প্রকল্পে কত খরচ, কী ধরনের সুবিধা রয়েছে এবং টাকা স্থানান্তর করলে কোনও বিশেষ সুবিধা হারানোর আশঙ্কা আছে কি না। বুঝতে অসুবিধা হলে পেনশন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি, পেনশন প্রদানকারী সংস্থার কাছে নিজের বর্তমান ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য আপডেট করে রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ চিঠি হারিয়ে না যায়।

পেনশন ট্রেসিং ডে-র আসল কথা খুব সহজ- নিজের জমানো টাকার কথা ভুলে যাবেন না! পুরনো চাকরির ফাইলের ভাঁজে, আলমারির তাকে কিংবা কম্পিউটারের কোনও পুরনো ফোল্ডারে লুকিয়ে থাকতে পারে অবসরজীবনের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থের সূত্র। তাই আজই একটু খোঁজ নিন। কে জানে, পুরোনো চাকরির স্মৃতির সঙ্গে হয়তো ফিরে পাবেন নিজেরই প্রাপ্য এক টুকরো আর্থিক নিশ্চয়তা!