চুল পড়া রুখতে কার্যকর কোন চিকিৎসা?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই চুল পাতলা হতে শুরু করে। বিশেষ করে মধ্যবয়সে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। বাজারে চুল পড়া কমানোর নানা পণ্য পাওয়া গেলেও, সব ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকর হয় না। এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দ্য গার্ডিয়ানের সৌন্দর্য বিষয়ক কলামিস্ট স্যালি হিউজ। তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত চুল পড়ার ওষুধ তাঁর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দিয়েছে।

স্যালি হিউজের বয়স ৫১ বছর। তাঁর কথায়, পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের আগের পর্যায়ে শরীরে নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি চুলও পাতলা হতে শুরু করে। চুলের যত্নে বিভিন্ন পণ্য পরীক্ষা করেও প্রত্যাশিত ফল পাননি তিনি। পরে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চুল পড়ার চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন।

তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মিনোক্সিডিলসহ চুল পড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ কার্যকর। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করার প্রায় দু’মাসের মধ্যে নিজের মাথায় নতুন চুল গজাতে দেখেন তিনি। তাঁর এক বান্ধবীও একই ধরনের চিকিৎসা নেওয়ার পর চুল পড়া কমতে এবং নতুন ছোট চুল গজাতে দেখেছিলেন বলে লেখায় উল্লেখ করেছেন স্যালি।

তবে মিনোক্সিডিল ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। স্যালি জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে মাথার চুলের পাশাপাশি থুতনিতেও চুল গজাতে শুরু করেছিল। তাই চিকিৎসার ফল পাওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি।

স্যালির মতে, চুল পড়া কমানোর নামে বাজারে প্রচারিত সব পণ্য বা অনলাইন বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে, কার্যকারিতার প্রমাণ রয়েছে এমন চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত। রোজমেরিযুক্ত শ্যাম্পু বা নানা ধরনের যন্ত্রের প্রচারের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক অস্বস্তি তৈরি হওয়াকেও হালকা করে দেখা উচিত নয় বলে মনে করেন এই লেখিকা।

চুল পড়ার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বয়স, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিজে থেকে ওষুধ ব্যবহার না করে, চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। মিনোক্সিডিল সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান