যে দিনটিতে দেরিতে উঠলে মিলতে পারে ‘পানির পুরস্কার’!

সকালে অ্যালার্ম বেজে যাচ্ছে, পরিবারে সবাই উঠে নাশতা সেরে ফেলেছে, অথচ আপনি এখনও কম্বলের রাজ্যে আরামে রাজত্ব করছেন? পরিবারের শেষ ব্যক্তি হিসেবে ঘুম থেকে ওঠা যদি আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়, তাহলে সাবধান! কারণ আপনার জন্যই আছে একটি বিশেষ দিবস ঘুমকাতুরে দিবস।

তবে এই দিবসের মজার ঐতিহ্য অনুযায়ী, বেশি ঘুমানোর পুরস্কার হিসেবে মিলতে পারে এক বালতি ঠান্ডা পানি! ফিনল্যান্ডে প্রচলিত এই রীতিতে পরিবারের সবচেয়ে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তিকে পানি ঢেলে জাগিয়ে তোলা হয়। অর্থাৎ, ঘুমের স্বর্গ থেকে জেগে উঠতে হতে পারে একেবারে ‘পানিময় বাস্তবতায়’!

ঘুমকাতুরে দিবস কীভাবে উদযাপন করবেন

ফিনল্যান্ডের ঐতিহ্য মেনে কিংবা নিজের মতো মজার কিছু করেও পালন করতে পারেন এই দিনটি। চলুন দেখে নেওয়া যাক কিছু মজার উপায়।

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা ব্যক্তিকে ‘পানি-অভিষেক’ করুন

ফিনল্যান্ডে বহুদিন ধরে চলে আসছে এই মজার প্রথা। পরিবারের যে সদস্যটি সবচেয়ে বেশি ঘুমপ্রিয়, তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় এক বালতি ঠান্ডা পানির চমক!

অবশ্য ঘরের শান্তি বজায় রাখতে চাইলে পুরো বালতি পানি না ঢেলে ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুখ মুছেও ঘুম ভাঙানো যেতে পারে। এতে ঘুমও ভাঙবে, আর সম্পর্কও ভাঙবে না!

তবে আগের রাতেই সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া ভালো যাতে সকালে কেউ ‘আমি তো জানতাম না!’ বলে বালিশের নিচে লুকানোর সুযোগ না পায়।

ফিনল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন

ঘুমকাতুরে দিবস পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য শুরু হয়নি, কিন্তু এই উপলক্ষে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করতেই পারেন। গ্রীষ্মকালে পালিত হওয়া এই দিবস নর্ডিক দেশটি ঘুরে দেখার জন্য চমৎকার সময়।

শুরু করতে পারেন রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে। শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করে এরপর চলে যান পশ্চিমের নানতালি শহরে। সেখানে এই দিবসের সবচেয়ে বিখ্যাত আয়োজন দেখতে পাবেন যেখানে প্রতিবছর একজন পরিচিত ব্যক্তিকে প্রতীকীভাবে সমুদ্রে ‘বিদায় স্নান’ করানো হয়!

নিজের মতো করে একটু বেশি ঘুমান

ফিনল্যান্ডে যেখানে এই দিবসে ঘুমকাতুরেদের দ্রুত বিছানা ছাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, সেখানে আপনি চাইলে উল্টো পথেও হাঁটতে পারেন।

কাজের চাপ, অ্যালার্মের অত্যাচার আর ভোরের ব্যস্ততা থেকে একদিনের ছুটি নিয়ে একটু বেশি ঘুমিয়ে নিন। কারণ ঘুমপ্রিয় মানুষদের কাছে এর চেয়ে বড় উৎসব আর কী হতে পারে?

ঘুমকাতুরে দিবসের ইতিহাস

ঘুমকাতুরে দিবসের ইতিহাস বেশ পুরোনো। এর শিকড় মধ্যযুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৬৫২ সালের একটি ধর্মীয় স্তোত্রগ্রন্থের ক্যালেন্ডারে এই দিবসের প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ধারণা করা হয়, এর আগেও মানুষ এই ঐতিহ্য পালন করতো।

প্রথম দিকে দিবসটি পালিত হতো ২৭ জুন। পরে ১৭০৯ সালে এটি এক মাস পিছিয়ে ২৭ জুলাই করা হয়। সেই থেকেই ফিনল্যান্ডে এই দিনটি ঐতিহ্যের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

সাত ঘুমন্ত ব্যক্তির গল্প ও পানির ঐতিহ্য

এই দিবসের সঙ্গে ফিনল্যান্ডের সেভেন স্লিপার্স অব ইফেসাসের কিংবদন্তির সম্পর্ক রয়েছে।

লোকবিশ্বাস ছিল, এই দিনে যে ব্যক্তি সবার শেষে ঘুম থেকে উঠবে, সে নাকি পুরো বছর অলস ও কর্মবিমুখ থাকবে! তাই শেষ ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য ব্যবহার করা হতো ঠান্ডা পানির চমক। এটি কখনও বালতি দিয়ে, আবার কখনও সরাসরি হ্রদ বা সমুদ্রে ফেলে করা হতো!

ধর্মীয় গল্প থেকে শুরু হলেও বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে এক মজার সামাজিক উৎসবে। পরিবার, বন্ধু কিংবা স্থানীয় সম্প্রদায় সবাই মিলে হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই পালন করে এই দিনটি।

নানতালির ‘সমুদ্রে ঘুম ভাঙানো’ উৎসব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিনল্যান্ডের নানতালি শহরে ঘুমকাতুরে দিবসের একটি বিশেষ রীতি জনপ্রিয় হয়েছে। প্রতিবছর একজন পরিচিত বা বিখ্যাত ব্যক্তিকে বেছে নিয়ে শহরের বন্দর থেকে প্রতীকীভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

এই ‘সম্মানিত ভেজানো’ অনুষ্ঠানের শিকার হয়েছেন মেয়র, লেখক, রাজনীতিবিদ, শিল্পীসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

অনুষ্ঠানটি সকাল ৭টায় শুরু হয়। তাই দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার শাস্তি হিসাবে এটি খুব ভয়ংকর কিছু নয়। বরং বলা যায়, এটি হলো ঘুম ভাঙানোর সবচেয়ে ঠান্ডা কিন্তু মজার উপায়!

তাই পরেরবার পরিবারের কেউ যদি সবচেয়ে শেষে ঘুম থেকে ওঠে, তাকে বকাঝকা না করে মনে করিয়ে দিন হয়তো আজ তারই ঘুমকাতুরে দিবসের বিশেষ পুরস্কার পাওয়ার দিন!