রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নে ইতোমধ্যেই ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করবে কমিটির সদস্যরা।
শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আমাদের কাজ শুরু হবে। বর্তমান নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটা গাইডলাইন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৫ রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কী চান? এসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০৭তম সিন্ডিকেট সভায় বর্তমান শিক্ষক নিয়োগ নীতমালা সংস্কার করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নে ১০ সদস্যের কমিটি করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলামকে আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করা হয়।
কমিটির কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম কবির, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহ, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সায়েদুজ্জামান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মো. মশিহুর রহমান।
নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালে যে নীতিমালা হয়েছিল সেটি বিবেচনায় রাখা হবে। এছাড়া নিয়োগ নীতিমালার ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যে গাইডলাইন রয়েছে সেটি গুরুত্ব পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল। যা পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী মানসম্মত নিয়োগ নীতিমালা হিসেবে সমাদৃত হয়। সেটি অনুযায়ী অনার্স ও মাস্টার্সে ন্যুনতম সিজিপিএ ৩.৫ প্রাপ্তদের মধ্যে শুধুমাত্র প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকারীরা শিক্ষক হতে আবেদন করতে পারবেন।
কিন্তু ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১৫ সালের সেই নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আবেদন যোগ্যতা শিথিল করে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। যা শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ নামে পরিচিত। সেটিতে সব অনুষদের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকারীদের আবেদনের বিষয়টি শিথিল করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া আবেদনের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে নামিয়ে আনা হয়। এমনকি, কিছু অনুষদে আবেদনের যোগ্যতা সিজিপিএ ৩.০০ করা হয়। এ নিয়ে সারা দেশে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।