আলোকচিত্রে শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘আলোকচিত্রে এক দফা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন তারা। 

সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে কিলো রোডের পাশে এই আলোকচিত্রের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, কিলো রোডের পাশে সবুজ সামিয়ানা টাঙানো। তাতে ঝুলানো প্রায় দেড় শতাধিক ছবি। প্রতিটি ছবিতে ফুটে উঠেছে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা। পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের নির্দয়ভাবে মারধরের স্থিরচিত্র। রয়েছে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষক ও পুলিশের কথোপকথনের চিত্র। বাদ যায়নি স্লোগানে স্লোগানে মুখর ক্যাম্পাসের দৃশ্য।

অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কিংবা অনশনে অসুস্থ সহযোদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নার স্থিরচিত্র। রয়েছে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত পুলিশের সামনে কিছু শিক্ষার্থী ফুল হাতে হাঁটু গেড়ে তাকিয়ে থাকার ছবি।

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত ২ সপ্তাহ ধরে আমরা যে আন্দোলন চালিয়ে আসছি তারই ধারাবাহিকতায় আজকের কর্মসূচি ‘আলোকচিত্রে এক দফা’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আমরা চেয়েছি, এই প্রদশর্নীতে আমাদের আন্দোলনের যে টাইমলাইন তার পুরোটা তুলে ধরতে। প্রদর্শনীতে আমরা শিক্ষার্থীদের তোলা আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি আমাদের দাবির সপক্ষে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছি। এখানে গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করার সময় থেকে ২৮ জানুয়ারির সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের প্রায় দেড় শতাধিক ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। 

মূলত, অনশন, মিছিল, সভা ও ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচির নানা স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে এতে। এভাবে নানারূপে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকে গত ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর থেকেই ভিসির পদত্যাগের এক দফা আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবি মানার আশ্বাসের পর থেকে শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে সরে আসলেও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা।