রাবি উর্দু বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে সহকর্মীদের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, বিধিবহির্ভূত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছে তার বিভাগের পাঁচ সহকর্মী। তাদের দাবি, অধ্যাপক আতাউর রহমান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলনের নামে বিভাগে তালা লাগিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। 

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তারা। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন, তার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষকরা হলেন অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন, অধ্যাপক মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, অধ্যাপক উম্মে কুলসুম আকতার বানু, মো. মোকাররম হোসেন মণ্ডল ও মো. সামিউল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে তারা দাবি করেন, অধ্যাপক আতাউর রহমান বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে আসছেন। তার অনুগত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে আন্দোলনের নামে বিভাগে তালা লাগিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগপত্রে তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ১ম বর্ষের ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল ছয় মাস আগে প্রকাশিত হলেও তিনি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তির ব্যবস্থা করেননি। ২০২১ সালের ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার ও ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের সব কোর্স শেষ হওয়ার পরেও পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ ও পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন না। তিনি যেসব পরীক্ষা কমিটিতে থাকেন তাতে ধারাবাহিক অসহযোগিতা ও সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন বলেও অভিযোগ তাদের।

তবে অভিযোগের বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। একটি কুচক্রী মহল আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনও এটি আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। উর্দু বিভাগের সভাপতিসহ শিক্ষকরা উপাচার্য এবং সহ-উপাচার্যের সঙ্গে মিটিংয়ে বসার কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, ‘উপাচার্য স্যারসহ তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। সেখানে বিভাগের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’