‘বৃত্তি বণ্টনে অসংগতি আমাদের ভুল বা শিক্ষার্থীরা তথ্য গোপন করেছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সম্পূরক বৃত্তি বণ্টনে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কেউ পূর্ণ বৃত্তির টাকা পেলেও, একই ধরনের শিক্ষার্থী অনেকে পেয়েছেন অর্ধেক। এ বিষয়ে অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, ‘সম্পূরক বৃত্তি বণ্টনে কোনও অসংগতি হয়ে থাকলে সেটি আমাদের ভুল বা শিক্ষার্থীরা তথ্য গোপন করেছে। আমরা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন।

কোষাধ্যক্ষ বলেন, হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অর্ধেক টাকা দেওয়ার কথা ছিল। আমরা এমন কোনও অভিযোগ পাইনি। যদি কেউ পুরো টাকা পেয়ে থাকে এবং কেউ অর্ধেক পেয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

হলে থাকা শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রশাসনের কাছেই রয়েছে, তাহলে তারা কীভাবে তথ্য গোপন করবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাহলে আমাদের কোথায় ভুল হয়েছে, আমরা সেটা খুঁজে বের করবো।’

এদিকে, হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তারা মেসে থাকাকালে ভাড়ার রশিদ দিয়ে সম্পূরক বৃত্তির আবেদন করেছিলেন। পরে হলে উঠলেও তাদের অনেকে মাত্র অর্ধেক টাকা পেয়েছেন। অথচ একই হলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত কিংবা সম্প্রতি হলে ওঠা কিছু শিক্ষার্থী পুরো অর্থ পেয়েছেন। এতে অর্থ বণ্টনের নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমি হলে উঠেছি মাত্র এক সপ্তাহ। আমাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা দুই-তিন বছর ধরে হলে থাকছেন, তাদের কেউ কেউ পুরো টাকা পেয়েছেন। সবাইকে একই নিয়মে টাকা দিলে কোনও আপত্তি থাকতো না।

অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থী সম্পূরক বৃত্তির জন্য আবেদন না করেও অর্থ পেয়েছেন। শুধু শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর যুক্ত করার পর তাদের অ্যাকাউন্টে বৃত্তির টাকা জমা হয়েছে।

আবাসিক শিক্ষার্থী আক্তার মনি বলেন, আমি কোনও আবেদন করিনি। ভেবেছিলাম হলের শিক্ষার্থীরা হয়তো টাকা পাবে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করেছিলাম। পরে দেখি, পুরো ৯ হাজার টাকা চলে এসেছে। কেন এমন হয়েছে, তা জানি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমি এক বছরের বেশি সময় ধরে হলে আছি। আমার অ্যাকাউন্টে পুরো টাকাই এসেছে।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, সম্পূরক বৃত্তির অর্থ বণ্টনের বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনও মতামত নেওয়া হয়নি। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে হল কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।

উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যমুনা আন্দোলনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিশেষ বা সম্পূরক বৃত্তি ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে আসে ১০ কোটি টাকা। সেই অর্থ বিতরণে অসংগতি ও বৈষম্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।