জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১০৪ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে কলা অনুষদের ২১ জন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ২৯ জন, আইন অনুষদের ৩ জন এবং চারুকলা অনুষদের ৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, “ইউনেস্কো কমিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অতীতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ধাপে ধাপে বরাদ্দ বাড়াচ্ছি। আগামী বছর তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে ৪ শতাংশ ও ৫ শতাংশে নেওয়া হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বিতর্ক, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালে সংস্কার কার্যক্রম শুরু এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য রইছ উদ্দিন বলেন, ২০২২ সালে ডিনস অ্যাওয়ার্ড নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আবাসনসংকট, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের ধীরগতি, বাজেট ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার মতো সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে।”
এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।









