রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে সংশ্লিষ্ট করে ঘটে যাওয়া পৃথক তিনটি ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিগুলোর কোনোটি এখনও প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এর মধ্যে দুটি কমিটি গঠনের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলছেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতাসহ নানা কারণে তদন্ত শেষ করতে সময় লাগছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে পুরোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় গত বছরের ২ জানুয়ারি। পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
পরে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর ও হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই ঘটনায় সালাউদ্দিন আম্মার ও রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অধ্যাপক এম ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দ্বিতীয় তদন্ত কমিটিটি শুরুতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। পরে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতাভুক্ত নয়; এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় মামলা করা প্রয়োজন। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলা করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিবেদনটি আর জমা দেওয়া হয়নি।’
প্রশাসন ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় গঠিত প্রথম তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দীর্ঘ সময়েও জমা না দেওয়ার বিষয়ে কমিটির প্রধান অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের কাজ প্রায় শেষ। প্রতিবেদন প্রায় প্রস্তুত। তবে কয়েকজন সদস্য সুপারিশ করা শাস্তিগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ কারণে প্রতিবেদন জমা দিতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, আগস্টের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, অধ্যাপক এম ফখরুল ইসলাম বলেন, তার নেতৃত্বাধীন কমিটি তদন্তের কাজ শেষ করেছে। প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর তাদের জানানো হয়েছিল, এটি আর সিন্ডিকেটে জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ ২৭ জুলাইয়ের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমাদের নিয়োগপত্রে তদন্ত শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি। তবে আমরা দ্রুত তদন্ত শেষ করতে চাই। কমিটির দুজন সদস্য বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে থাকায় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার থেকে আবার তদন্ত শুরু হবে।’
তদন্ত কমিটিগুলোর কাজে প্রশাসনিক চাপ বা অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আবদুল আলীম। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের চাপ বা বাধার মুখোমুখি হইনি। সর্বশেষ গঠিত কমিটির কয়েকজন সদস্য রাজশাহীর বাইরে থাকায় তারা এখনও কাজ শুরু করতে পারেননি। প্রশাসন ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।’