রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন – এমন খবর এখন সবখানে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কিছু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তিনি তা চিঠির মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে জানাবেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ, শারীরিক অসামর্থ্য বা অভিশংসন হলে এই পদ শূন্য হয়। এ ছাড়া গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের কারণেও রাষ্ট্রপতি অপসারিত হতে পারেন। আর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে ৩৫ বছরের বেশি ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মতো যোগ্য হতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ হতে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।’

‘আর বিপক্ষে প্রার্থী না থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। তফসিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এই নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সময়ে যদি অধিবেশন না থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোটগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন।’

সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি কোনও কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে পদত্যাগ পত্র সংসদের স্পিকার বরাবর পাঠাতে হবে।  পরে বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকার ওই দায়িত্ব পালন করবেন। পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পূর্ণ করে স্পিকার সে পদে থাকতে পারবেন।  নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পদে থাকতে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ নতুন রাষ্ট্রপতি না আসা পর্যন্ত পূর্বের রাষ্ট্রপতির বাকি মেয়াদ স্পিকার পূর্ণ করতে পারবেন। এর আগেও ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে  অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তৎকালীন স্পিকার ব‍্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।