একসময় ইতালি নিবাসী সুবোধ কুমার হালদার শ্রদ্ধা জানাতে এসে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের পর সবচেয়ে বেশি সময়, প্রায় ১১ বছর ছিলাম আমি ইতালিতে। সেই ইতালির এতগুলো মানুষকে আমার দেশে হত্যা করা হয়েছে, এ নিয়ে একটা অপরাধবোধ নিয়ে এতদিন ছিলাম। আজ তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি, তাদেরসহ সবার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।’
২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ নিহত হন ২২ জন। এই হামলায় নিহত হন ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ইতালিয়ান নয় জন, জাপানি সাত জন ও একজন ভারতীয় নাগরিক। জঙ্গিরা প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিল রেস্টুরেন্টটি। পরদিন (২ জুলাই) সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। এসময় সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নামে ওই রেস্তোরাঁর একজন শেফও নিহত হন।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির মনে করেন, শক্তি দিয়ে জঙ্গিবাদ হয়তো সাময়িকভাবে দমন করা যায়, কিন্তু নির্মূল করা সম্ভব নয়। একাত্তরে স্বজন হারানো মানুষদের সঙ্গে নিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে আদর্শ দিয়ে। এ জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে, জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনঃস্থাপন করতে হবে।’
এসময় শহীদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে হত্যাকাণ্ডগুলো একাত্তরে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতির খেসারত হিসেবে হলি আর্টিজানকে দেখতে পেয়েছি।’
যে নয়জন ইতালীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন তারা বাংলাদেশের নানা জায়গায় কর্মরত ছিলেন। কেউ কেউ ছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই। ইতালীয় নাগরিক নাদিয়া বেনেদেত্তি (৫২) বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। ক্লউডিও কাপেলি (৪৫) ভেদেনো পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে নিজের একটি টেক্সটাইল কোম্পানি চালাচ্ছিলেন। এছাড়া নিহত হন ভিনসেনজো দাল্লেসত্রো (৪৬), ক্লাউদিয়া মারিয়া ডি এন্তোনা (৫৬)। আরেক নিহত সিমিনা রোস্তি (৩৩), এদেল পিগলিসি (৫০) ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ক্রিসটিয়ান রোজি (৪৭) আগের দিন ইতালি চলে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি পরিকল্পনা বদলে থেকে যান। এছাড়া ছিলেন মারিয়া রিবোলি (৩৩) ও মারকো তনদাত—যারা ব্যবসায়িক কাজেই বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।
গুলশান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় সাত জাপানি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ এবং দুই নারী। এরা হলেন, তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, শাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেইকো। এদের মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
/ইউআই/জেএ/এআরআর/টিএন/
আরও পড়ুন-
অবিন্তা নেই, বেঁচে আছে তার স্বপ্ন
তুমি কোথায়, গুলশানে জঙ্গি হামলা!
দুর্বিসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন তারা
‘হয় আমি মরবো, না হয় ওদের মারবো’
অপারেশনের শুরুতে উত্তেজনায় কাঁপছিলাম
নিহত শাওনের মায়ের বিলাপে ভারি গুলশান
হলি আর্টিজান কেন বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা?
এসি রবিউলের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ থেকে ‘সান ডেভিল’
শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন এডিসি আব্দুল আহাদ
গুলি ও বোমার আঘাতেই মৃত্যু হয়েছিল হলি আর্টিজানের জঙ্গিদের
গুলশান হামলায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান নিয়ে দূতাবাসগুলোয় সতর্কতা
হলি আর্টিজানের পলাতক জঙ্গিদের এক মাসের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে: মনিরুল
হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনা রাজশাহীতে, কৌশল নির্ধারণ গাইবান্ধায়, চূড়ান্ত অপারেশন প্ল্যান ঢাকায়