তবে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সেই দলীয় কার্যালয়ে খোকা আসেন কফিনবন্দি হয়ে। প্রিয় নেতাকে বিদায় দিতে ও তার জানাজায় অংশ নিতে পল্টনের রাস্তায় নামে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল।
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাদেক হোসেন খোকার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজা পড়ান জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা নেসারুল হক। জানাজাকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ আমরা সাদেক হোসেন খোকার প্রিয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে তার জানাজা পড়তে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তাকে যেন জান্নাত দান করেন।
সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনে সারাদেশের মানুষ অতিষ্ঠ দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ এ সময়ে আমরা আমাদের সহযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জানাজা পড়ছি। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন সাদেক হোসেন খোকা। ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তিনি ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
আরও পড়ুন:
শহীদ মিনারে খোকাকে সর্বজনের শ্রদ্ধা
সংসদ ভবনে খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত
খোকার মরদেহে মেয়র আতিকের শ্রদ্ধা