বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার দাবি শিল্পমন্ত্রীর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ও ১৫ আগস্টের সকল শহীদের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এই দাবি জানান।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের  সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

স্বাগত বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের হত্যার ঘটনা ঘটলেও শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।’

অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘‘  দেশের উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কতটা প্রয়োজন, ২০২১ সালে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ১৯৫৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য ‘এই দেশের অর্থনীতির জন্য আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে দেশের পল্লী অর্থনীতির ওপর। কারণ, পল্লী অর্থনীতির ওপর দেশের অর্থনীতির ৮০ ভাগ নির্ভরশীল’ প্রমাণ করে তিনি কতটা দূরদর্শী ছিলেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘মূলত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহেই বঙ্গবন্ধু তার তিনটি গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়া চীন’ লিখেছিলেন।’’ বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তিনি একটি কমিশন গঠনেরও দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন  বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হলেও এখন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার সময় হয়েছে।’ তার মতে, এজন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে। শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। তাই এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।’ প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে রূপকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে এগুচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে অনেককেই সুবিধা নিতে দেখা গেলেও ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ জানাতে কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী বা পেশাজীবীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে,  বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে যারা জীবন বাজি রেখে চেষ্টা করেছেন, তাদের খোঁজ কেউ রাখেনি।’ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। করোনা মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘৫৬ বছরের জীবনের ৮৮ ভাগই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ব্যয় করেছেন দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। মাত্র ১২ ভাগ সময় তিনি দিতে পেরেছেন নিজের পরিবারের জন্য।’ তিনি আরও বলেন,  ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে ৪৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হয়েছে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে ২৩তম অর্থনীতির দেশে উন্নীত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন।