শ্রমিক বিক্ষোভ: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করলো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ 

তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময় মতো দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আগামীতে এ ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সর্তক করা হয়।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর থেকেই তারা কাজ বন্ধ রেখে ভিআইপি টার্মিনালের সীমানা প্রাচীর এবং থার্ড টার্মিনালের রাস্তার ওপর অবস্থান নিয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কনকর্ড গ্রুপের প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক বিক্ষোভে অংশ নেন। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সকালেও শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাস্তা অবরোধের ফলে এদিনও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ করছে জাপানের মিটসুবিশি, ফুজিতা ও কোরিয়ার স্যামসাং, কনসোর্টিয়াম এভিয়েশন ও ঢাকা কনসোর্টিয়াম। মূল নির্মাতা এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম হলেও তাদের অধীনে একাধিক  প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে কনকর্ড গ্রুপও। কনকর্ড গ্রুপ এসওএস কোম্পানির মাধ্যমে জনবল সংগ্রহ করে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষপটে শুক্রবার সকালে কনকর্ড গ্রুপ  এবং এসওএস কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের                নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান  এবং তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ  প্রকল্পের পরিচালক  এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম। বৈঠকে শ্রমিকদের অসন্তোষের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শ্রমিকদের অভিযোগ জানার জন্য প্রকল্প এলকায় বেবিচকের  প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে মত দেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক। কনকর্ড গ্রুপের প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিমাসের ২ তারিখের মধ্যে তারা টাকা পরিশোধ করবেন,   এসওএস শ্রমিকদের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের  নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন নিয়ে অসন্তোষ অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেকে সর্তক— তারা যেন সময় মতো বেতন ভাতা পরিশোধ করে।  আগামীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকায় বেবিচকের প্রতিনিধি থাকবেন। তারা সার্বিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। শ্রমিকদের কোনও অভিযোগ থাকলে তা জেনে ব্যবস্থা নেবেন।’

আন্দোলন প্রসঙ্গে শ্রমিকরা জানান, কনকর্ড গ্রুপ প্রতি মাসের ১ তারিখের পরিবর্তে ২৫ তারিখের দিকে তাদের বেতন দেয়। এ নিয়ে বরাবরই আপত্তি ছিল তাদের। বিগত কয়েক মাসে ২৫ তারিখেও বেতন দেয়নি  প্রতিষ্ঠানটি। গেলো সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দেওয়া হয় অক্টোবর মাসে ২৭ তারিখে। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) অক্টোবর মাসের বেতন নিতে গেলে শ্রমিকদের জানানো হয়— পুরো মাসের পরিবর্তে অর্ধেক মাসের বেতন দেওয়া হবে। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। বকেয়া বেতনের দাবিতে ভিভিআইপি টার্মিনালের সীমানা প্রাচীর ও থার্ড টার্মিনালের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক বলেন, আমরা এখনও দুই মাসের বেতন পাবো। সেখানে এক মাসের অর্ধেক দিতে চাচ্ছে। এটা কীভাবে মানবো? এখানে অনেক অনিয়ম। চাকরিতে ঢুকলে ফোরম্যান, সুপারভাইজার, অফিসের কর্মকর্তা সবাই টাকা নেয়। এক একজনের কাছে থেকে ১৫ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা নেওয়া হয়। প্রতিদিন লোক ঢুকে প্রতিদিন লোক চলে যায়। বেতন যেহেতু পরের মাসের ২৫ তারিখের পরে দেয়, এ কারণে চাকরি ছেড়ে গেলে ১ মাসের বেতন আর দেয় না। কোম্পানি খাবার খরচ বাবদ প্রতি মাসে চার হাজার টাকা কেটে নেয়।    খাবারের মান একেবারে খারাপ। কেউ যদি সেই খাবার খেতে না চান, তাহলে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন পাস হতে হতে না খেলেও ২/১ মাসের টাকা কাটে। পিপিই, হেলমেট,  জুতা,  সেফটি ভেস্ট বাবদ দুই হাজার টাকা কেটে রাখা হয়। অথচ এসব সুরক্ষা সামগ্রী কোম্পানির দেওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:

বেতনের দাবিতে শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর