ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রবিবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশে ১০ লাখ মোটরসাইকেল নতুন যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২০ লাখ ইজিবাইক রাস্তায় নেমেছে। এখন ৩৫ লাখের বেশি মোটরসাইকেল ও ৪০ লাখের কাছাকাছি ইজিবাইক রাস্তায় চলছে। যা দেশের যানজট প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এবারের ঈদে মহাসড়কে এসব যান নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়তে হবে যাত্রীদের।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, এ ঈদে আন্তঃজেলায় রাইড শেয়ারিং পন্থায় মোটরসাইকেলে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ট্রিপ হতে পারে। মহাসড়কেও থাকতে পারে ২০-২৫ লাখ মোটরসাইকেল। এসবে স্ত্রী-সন্তান লাগেজ নিয়ে বেপরোয়াভাবে বাস-কারের সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
গত ঈদের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ঈদে কেবল মোটরসাইকেলে ১৪৪টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন মারা গিয়েছিল। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৫.২৮ শতাংশ ও নিহতের ৪৩.০৩ শতাংশ। এবারের ঈদে গতবারের চেয়ে ৩ গুণ যাত্রী মোটরসাইকেলে যাত্রা করতে পারে বলেও জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরও জানা যায়, বিভিন্ন মহাসড়কে সার্ভিস লেইন না থাকায় ঈদ-যাত্রী বহনে ১৫ লাখের বেশি ইজিবাইক, রিকশা, অটোরিকশা বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কে নেমে আসতে পারে।
এসব ছোট যানবাহন দূরপাল্লার বাস ও প্রাইভেটকারের গতি কমিয়ে দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ জাংশনে যানজট তৈরি, রাস্তার মোড় ও বাস স্টপেজগুলোতে যানজট তৈরি করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।