নির্বাচন বর্জনসহ ৪ দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান কর্মসূচি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনসহ চারটি দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আকাশ বিশ্বাস। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

আকাশের দাবিগুলো হলো–

১. একদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন করে নির্দলীয় সরকার গঠন করতে হবে এবং সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

২. জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

৩. গুম, খুন, নির্যাতনের বিচার এবং শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। সব নাগরিকের নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকোচন বন্ধ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আকাশ বলেন, ‘আমি দেশের একজন বিক্ষুব্ধ নাগরিক ও ছাত্র। দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪ ও ২০১৮-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আবারও একই রকম একটি নির্বাচন সামনে হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অধীনে এই ডামি নির্বাচনের প্রতি নাগরিকদের কোনও আস্থা নেই। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। এই নির্বাচনকে বর্জন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, সংবিধানেই এক ব্যক্তিকেন্দ্রীক এবং এক দলীয় শাসন কাঠামোর বীজ বপন করা আছে। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।’

গত ১৫ বছরে দেশের নাগরিকরা অব্যাহতভাবে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মন্তব্য করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা গেস্টরুমে নির্যাতিত হচ্ছে, শ্রমিকদের মজুরির আন্দোলনে গুলি চালানো হচ্ছে; সর্বোপরি বাংলাদেশে একটা মানবাধিকার বিপর্যয় চলছে। এ সব ঘটনার বিচার করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরিসহ নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরাজনীতিকরণ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চাই, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে কথা বলতে পারবে। রাজনৈতিক পরিসর সংকোচনের চক্রান্ত বন্ধ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব।’

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি এই আন্দোলন চালিয়ে যাবো উল্লেখ করে আকাশ বলেন, ‘ছাত্র-নাগরিকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা আসুন দলমত নির্বিশেষে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পক্ষে একতাবদ্ধ হই। ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমি সবাইকে গণঅবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছি।’