জুলাই আন্দোলনের প্রত্যক্ষ বিরোধীতাকারীদের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের (বেসিস) নেতৃত্ব থেকে অপসারণসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন বেসিস সংস্কার পরিষদের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বেসিস সংস্কার পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বেসিস সংস্কার পরিষদের সদস্য ও ইনফোব্যান রিয়েলম আইটি সলিউশনেরা মুখপাত্র ফৌজিয়া নিগার সুলতানা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও বেসিসে বীরদর্পে অপকর্ম করে যাচ্ছে। বেসিসের বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির (ইসি) অনেক সদস্যের দুর্নীতি ও অপকর্মের সংবাদ মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে অনেকবার প্রকাশিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে বিতর্কিত বেসিস নির্বাচনে সব কটি প্যানেলই সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের ইচ্ছানুসারে স্বেচ্ছাচারী পন্থায় চাপানো ছিল। এমনকি অনৈতিকভাবে নির্বাচনে জিততে তারা নির্বাচনের আগে প্রক্সি ভোটার তৈরির পাশাপাশি বৈধ সদস্যদের ভোটার হতে বাধা দিয়েছে নজীরবিহীন উপায়ে। ফলে ২ হাজার ৬০০ সদস্যের বেসিসে সর্বোচ্চ ৯০০ জন ভোটার হতে পেরেছিল। ভিন্নমতের সদস্যদের ভোট থেকে বিরত রাখতেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়।
বেসিস সংস্কারে তাদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে– বর্তমান নির্বাহী কমিটির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে; নিরপেক্ষভাবে বর্তমান সদস্যদের প্রকৃত যোগ্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভুয়া-প্রক্সি সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে; বিগত বছরগুলোতে যে সব সদস্য ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সদস্যপদ নবায়ন করতে পারেননি, তাদের ব্যবসায় ফিরে আসতে সার্বিক সহায়তা করতে হবে; প্রেসিডেন্টস ফোরাম নামে স্বেচ্ছাচারী প্ল্যাটফর্মের অবসান করতে হবে; বেসিস গঠনতন্ত্র পুনর্গঠন করে এতে বিদ্যমান সুস্পষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে এবং একটি নিরপেক্ষ সংস্কার কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বেসিসের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ণ করতে হবে।