গত ১৭ বছর ধরে ‘অন্যায়ভাবে’ জেলে আটক থাকা বিডিআর সদস্যদের মুক্তি, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার নিশ্চিত, বিস্ফোরক মামলা বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নতুন করে ৬ দফা দাবি জানিয়েছে জাস্টিস ফর বিডিআর নামের একটি প্লাটফর্ম।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত দাবি পেশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহীন সরকার।
তাদের দাবিগুলো হলো-
১. ইতোমধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া জেল বন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসনের বিস্ফোরক মামলা বাতিল করতে হবে।
২. পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসকল বিডিআর সদস্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সকলকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ‘ব্যতীত’ শব্দ এবং কার্যপরিধি ২-এর (ঙ) নং ধারা বাদ দিতে হবে। একইসাথে স্বাধীন তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত সর্বপ্রকার নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৪. পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ হওয়া ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ জন বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে জেলের ভেতর মারা যাওয়া প্রত্যেক বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৫. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনতে হবে।
৬. পিলখানার হত্যাকাণ্ডে সকল শহীদের স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে এবং শহীদ পরিবারের সর্বপ্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিডিআর পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা কোনও প্রকার ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে আসিনি। অন্যায় বিচারকে আমরা প্রশ্ন করতে এসেছি। আপনাদের সাথে করা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আপনাদের ভয় পাবার কারণ নেই। তাছাড়া, আপনাদের আবেগ নিয়ে যেন কেউ বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেদিকে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে।
এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিডিআর সদস্যদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন তারা৷ সেদিন তারা দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে সবগুলো দাবি মেনে না নেওয়ায় আজ তারা নতুন করে ৬ দফা দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জাস্টিস ফর বিডিআর-এর নেতারা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।