হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় আসক 

মাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক যুবক রাসেল কাজীর (২৯) মৃত্যু এবং রাজধানীর পল্লবীতে ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পে নিয়ে অস্ত্রের পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলাসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি এই দুটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে আসক এই প্রতিক্রিয়া জানায়। 

বিবৃতিতে আসক জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক রাসেল কাজী (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে আটক করা হয় এবং অভিযানের সময় নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। 

অন্যদিকে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে ঢাকার পল্লবী এলাকায় ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে আটকের ঘটনাকে ‘গুরুতর অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আসক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই রকিকে তুলে নিয়ে মিরপুর দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখানে তাকে একটি অবৈধ অস্ত্রের পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয় এবং কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিতে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি তাকে একটি অজ্ঞাত কাগজে সই করতেও বাধ্য করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ইমতিয়াজ হোসেন রকি হলেন ২০১৪ সালে পল্লবী থানা হেফাজতে নিহত জনি হত্যা মামলার বাদী। জনি হত্যা মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজির স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবং বর্তমানে যা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

আসক বলছে, একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে হয়রানি ও মিথ্যা ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। 

বিবৃতিতে আসক উল্লেখ করেছে, এই দুটি ঘটনা বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ অনুচ্ছেদ এবং ‘হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া এটি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের পরিপন্থি। 

আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই দুটি ঘটনার প্রেক্ষিতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।