সদরঘাটে দুর্ঘটনা: লঞ্চ ও পানির চাপে উদ্ধারকাজ স্থগিত

রাজধানীর সদরঘাটে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে নিখোঁজ এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করলেও লঞ্চের চাপ এবং পানির প্রবাহের কারণে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ফায়ার সার্ভিস সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম বলেন, “লঞ্চ দুর্ঘটনায় মিরাজ নামের একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে উদ্ধারে আমরা আজ সকাল ছয়টা থেকে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পানির প্রবাহ অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবল ছিল এবং লঞ্চগুলোও ঘনভাবে জড়ো থাকায় সরানো যাচ্ছিল না। পাশাপাশি যাত্রীদের চাপও কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল। ডুবুরিরা পানি তলে চেষ্টা করলেও বারবার লঞ্চের নিচে চলে যাচ্ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সকাল আটটার পর পল্টন এলাকা কিছুটা ফাঁকা হওয়ার কারণে ডুবুরিরা পুনরায় চেষ্টা চালিয়েছে। তবে লঞ্চগুলো সরানোর সময় যাত্রীদের চাপ এবং জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের কারণে ডুবুরিরা নিচে দীর্ঘ সময় থাকতে পারছিল না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমাদের সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। লঞ্চের চাপ কমলে পুনরায় ডুবুরির মাধ্যমে উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত টহল ডিউটি অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, বুধবার বিকালে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হন মিরাজ। তিনি ছেলে ও পুত্রবধু নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উঠার সময় জাকির সম্রাট ৩ লঞ্চটি পন্টুন থেকে বের হওয়া আসা-যাওয়া ৫ লঞ্চকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মিরাজের ছেলে সোহেল নিহত হন, তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানান, নিহত সোহেলের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে।