লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হবে, তবে আলোচনা সাপেক্ষে  

লঞ্চের ভাড়া বাড়াতে চেয়ে বিআইডব্লিউটিএ-কে চিঠি দিয়েছেন লঞ্চের মালিকরা। তবে সেটি অবশ্যই আলোচনা সাপেক্ষে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. হান্নান। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ভাড়া আগের মতোই আছে। ভাড়া বাড়ানো হয়নি। চিঠির ব্যাপারে যদি বিআইডব্লিউটিএ’র সিদ্ধান্ত হয় তারপরই ভাড়া বাড়ানো হতে পারে। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কয়েকজন স্টাফ ও যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাড়া বৃদ্ধির খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

ভাড়া বাড়ানো নিয়ে রফিকুল নামে ফারহান-৭ লঞ্চের এক স্টাফ বলেন, “তেলের দাম বাড়লেও আমাদের এখানে এখনও ভাড়ার ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি এবং আগের ভাড়াই কার্যকর রয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়নি, ফলে যাত্রীরা আগের মতোই নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করছেন। তবে সরকার থেকে নির্দেশনা এলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে তখন ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তার আগে ভাড়া বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেই।” 

চাঁদপুরগামী যাত্রী মো. আল-আমিন বলেন, “চাঁদপুর রুটে এমনিতেই সিজন ছাড়া যাত্রী পাওয়া যায় না, তার ওপর যদি ৩৬-৪২ শতাংশ ভাড়া বাড়ে, তবে মানুষ লঞ্চ ছেড়ে বাসে যাতায়াত শুরু করবে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের পকেট কাটা পড়বে।” ভোলাগামী লঞ্চের যাত্রী সুমি আক্তার বলেন, “ভোলার মানুষের জন্য লঞ্চই একমাত্র ভরসা, কিন্তু হুট করে এত টাকা ভাড়া বাড়ানো হলে আমাদের পক্ষে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।” 

এমভি টিপু লঞ্চের এক স্টাফ বলেন, “তেলের দাম বাড়ায় আমাদের ট্রিপের খরচ অনেক বেড়ে গেছে, এখন মালিক যদি লসে থাকে তবে আমাদের সংসার চালানোও দায় হয়ে যাবে; তাই আলোচনা করে একটা যৌক্তিক ভাড়া ঠিক করা দরকার।” 

​দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাস-মালিকদের মতো লঞ্চ মালিকরাও সরকারের কাছে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। গতকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে যাত্রীদের ভাড়া সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করায় লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, প্লেট, প্রপেলার, গ্যাস ও রঙের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। 

​লঞ্চমালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা (৩৬% বৃদ্ধি) এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ভাড়ার চেয়ে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা (৪২% বৃদ্ধি) নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত শনিবার সরকার ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় করা না হলে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন মালিকরা।