সাংবাদিক রেজানুরকে গ্রেফতারের নিন্দা পেন বাংলাদেশের, অবিলম্বে মুক্তির দাবি 

দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন-এর বাংলাদেশ শাখা ‘পেন বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে সংগঠনটি এই সাংবাদিকের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, মামলার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার (২০ জুন) পেন বাংলাদেশের অফিস সেক্রেটারি জাহিদ সোহাগের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও দাবি জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গাজীপুর সদর উপজেলার গাছা ইউনিয়নের বোর্ড বাজার এলাকা থেকে বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল সাংবাদিক রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরদিন শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের (বগুড়া-২, শিবগঞ্জ) বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের জের ধরে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও ‘দ্য নিউ নেশন’ পত্রিকার উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় পত্রিকাটির প্রকাশক, বেশ কয়েকজন সম্পাদক ও রিপোর্টারসহ মোট ছয় জনকে আসামি করা হয়েছে। 

বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মিথ্যা ও মানহানিকর এবং গত ১২ জুন বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। মামলাটি বগুড়া সদর থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬-এর একাধিক ধারায় বগুড়া ডিবি পুলিশ এর তদন্ত করছে।

এই প্রসঙ্গে পেন বাংলাদেশ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান ও তা প্রকাশের অধিকার হলো বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মৌলিক অংশ। রুটিন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও গ্রেফতারের এই প্রবণতা দেশজুড়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করবে।

সংগঠনটি আরও জানায়, সংবাদ প্রকাশের জেরে সৃষ্ট মানহানি বা সুনামের বিরোধ নিষ্পত্তিতে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৬’ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির এমন ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের পদক্ষেপ মুক্ত প্রকাশ প্রকাশের আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। সাংবিধানিক নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে এই মামলার দ্রুত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেন বাংলাদেশ।