কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে হারলেও স্বস্তিতে আ.লীগ

আওয়ামী লীগসদ্য অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা  হেরে গেলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন। তারা বলছেন, কুমিল্লায় হারলেও আওয়ামী লীগের অনেক ভোট বেড়েছে। গত নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আফজল খান বিএনপির প্রার্থীর কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার মাত্র দশ হাজার ভোটে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিষয়টিকে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই দেখছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। কুমিল্লা সিটিতে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় যুক্ত থাকা কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমিল্লা নির্বাচনের সমন্বয়ক একে এম এনামুল হক শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা কারণে আমরা হেরেছি ঠিকই। কিন্তু দেখা গেছে সেখানে নৌকার ভোট বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এটি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজের ফসল। গত নির্বাচনে আফজাল খান বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন প্রায় চল্লিশ হাজার ভোটে। এবার সে ব্যবধান কমেছে।’

কুসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হলেও তেমন দুশ্চিন্তায় নেই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ ও এনামুল হক শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লার নির্বাচন নিয়ে একটি প্রতিবেদন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করব।’ তারা বলেন, ‘প্রত্যেকের ভূমিকার বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরব। প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে, শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে তারা বলেন, এ সম্পর্কে আমরা কিছু বলতে পারছি না। এটা সম্পূর্ণ দলীয় সভাপতির এখতিয়ার।’
এই প্রসঙ্গে সভাপতিমণ্ডলীর ও সম্পাদকমণ্ডলীর বেশ কয়েকজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা কুমিল্লা সিটিতে পরাজয়ের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কুমিল্লার রাজনীতিতে সদর আসনের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে অ্যাডভোকেট আফজল খানের দ্বন্দ্ব পুরনো। এই দ্বন্দ্ব থাকলেও কুমিল্লায় বাহার নিয়ন্ত্রিত ওয়ার্ডগুলোতে নৌকার প্রতীক ৪২ হাজার ১৭২ ভোট পেয়েছে। বাহাউদ্দিন বাহার নিয়ন্ত্রিত ১৮টি ওয়ার্ডে  নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা যে ভোট পেয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই বাহারের প্রতি কিছুটা ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের। 

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমিল্লার বিভক্ত রাজনীতিই নৌকার প্রার্থীকে হারিয়েছে। এটা নিশ্চিত। কারণ সেখানে নৌকার ভোট বেশি। দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে সেখানে হারতে হতো না সীমাকে।’ 

 আরও পড়ুন: কুমিল্লায় আ. লীগই হারালো আ. লীগকে!

/এমএনএইচ/