জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে: গোলাম পরওয়ার

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই সাধারণ মানুষ দিশেহারা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “সংসারের ব্যয় মেটাতে মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনজীবনে নতুন করে সংকট সৃষ্টি করবে এবং তাদের দুর্ভোগকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।”  

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান হওয়ায় এর দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পণ্য পরিবহন, কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হবে সাধারণ জনগণকেই।” 

তিনি বলেন, “জনগণের ক্রয়ক্ষমতা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার দায় সরাসরি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক নীতি হতে পারে না।” 

তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা, ব্যয় সংকোচন, অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ম বন্ধ করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, “শুধু মূল্য বাড়িয়ে সরকারি সংস্থার আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।” 

তিনি বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি সরকারকে জ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।