রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনের নামে কোনও মেধাবীকে যেন বাদ না দেওয়া হয় সেই দাবি জানালেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি জানান, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ) বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাগ্রত জুলাই ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাগ্রত জুলাই ফোরাম।
আবু হানিফ বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে আমরা লক্ষ্য করেছি প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকশনের নামে অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামি লীগের সময় এই কাজ হতো। চৌদ্দ গোষ্ঠীর ব্লাড পরীক্ষা করে দেখা হতো আওয়ামি লীগ কিনা, সেটা নিশ্চিত হয়ে চাকরি দেওয়া হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এটা কাম্য নয়। আমরা আশা করি এখন চাকরি পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হবে মেধা। শুধু রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনের নামে কোনও মেধাবী কে যেন বাদ না দেওয়া হয়।’
বিক্ষোভ সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শুধু আওয়ামি লীগের পতন হয় নাই, সাথে ভারতীয় আগ্রাসনেরও পতন হয়েছিলো। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময় স্বৈরাচার হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করছে। সরকারকে ভাগে নিতে বার বার হাসিনা কার্ড খেলছে ভারত। চীন সফরের সময়, বিমস্টেক সম্মেলন, সবশেষ জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় টার্গেট করে খুনি হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে ভারত।’
তিনি মনে করেন, ‘এই বিষয় গুলোকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নাই। ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতেও আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারকে তিনি আহ্বান করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলা গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য।’
এ সময় সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসিকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়ার জন্য।
তিনি বলেন, ‘এই ওসি ফোনে বলছিল খুনি হাসিনার নাকি দ্রুত দেশে ফেরা উচিত। এর আগে আমরা দেখি গুলশান জোনের ডিসি আগের দিন নিষিদ্ধ লীগকে মিছিল করার জন্য ক্লিয়ারেন্স দেয়। এই আওয়ামি লীগের গুপ্তদেরকে কারা অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করেছে সেটা সরকারের তদন্ত করে বের করা উচিত।’
তার দাবি, ওসি রাকিবুলের মতো প্রশাসনে থাকা আওয়ামি লীগের গুপ্তদের বিচারের আওতায় আনলে বাংলাদেশে আর নিষিদ্ধ লীগ মিছিল করার সুযোগ পাবে না।’