তালেবানের দখলদারিত্বে হতাশ আবাহনীর খেলোয়াড় মাসিহ সাইঘানি

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাত্র ২ বছর বয়সে কাবুল ছেড়ে জার্মানি পাড়ি দিয়েছিলেন মাসিহ সাইঘানির পরিবার। বিদেশে বিভূঁইয়ে থেকেও সবসময় মাতৃভূমির কথা ভাবেন। বিপদে-আপদে দেশের কথা চিন্তা করে সাইঘানির পরিবারের মন বেশ কাঁদে। এই তো দেশে আবারও ক্ষমতার অলিন্দে তালেবানদের দখলদারিত্ব সময়ের ব্যাপার। এমনটি দেখে ভীষণ মন খারাপ বর্তমানে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে খেলা দেশটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানির। দেশে যে ফের ঘোর অন্ধকার নেমে আসছে তা দিব্য চোখে দেখতে পাচ্ছেন এই ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার।

তালেবানদের শাসনামলে আফগানিস্তান যে পিছনে হেঁটেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই সময়ে বিশেষ করে নারীদের ওপর নেমে এসেছিল নানান বাধ্যবাধকতা। চুল থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পরযন্ত ঢেকে রাখতে হয়েছে। মেয়েদের তো ১০ বছর বয়স হলেই স্কুলেই যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। শরীয় আইন চালু করে দোররা ও পাথর ছুঁড়ে হত্যার মতো শাস্তি আরোপ ছিল নিত্য-নৈমত্তিক ঘটনা।

তাই তো মাসিহ সাইঘানি বাংলা ট্রিবিউনকে হতাশ কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমাদের পিতৃভূমি আবারও তালেবনারা দখল করে নিচ্ছে। এমন খবর দেখে মনটা আসলে বেশ বিষণ্ন। আমরা আবারও অন্ধকার যুগে ফিরে যাবো! এই সময়ে এসে এটা চিন্তা করাও যায় না।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তালেবানরা দেশ দখল করে নিচ্ছে। তাই সামনের দিকে যে দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে তারাই থাকছে তা বলে দেওয়া যায়। তালেবানদের শাসন চললে যে নারীদের ওপর বেশি দুর্ভোগ নামবে-এটা ভেবেই ব্যথিত সাইঘানির মন, ‘তালেবানরা তো নারীদের ক্ষমতায়ন পছন্দ করে না মোটেও। তারা যে করেই হোক তাদের দাবিয়ে রাখতে চায়। শিক্ষা-দীক্ষাতেও। শরীয়া আইনের প্রয়োগ করতে চাইবে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন।’

সাইঘানির চার ভাই ও এক বোন। বাবা-মা সহ অনেকেই জার্মানিতেই বসবাস। কিন্তু তাদের কাছে আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই আবার কাবুলে রয়েছেন। সবার জন্যই তাই চিন্তা বেশি সাইঘানির, ‘আমার বাবার কিছু আত্মীয়-স্বজন এখনও কাবুলে থাকেন। তাদের কথা ভেবে বেশ মনটা খারাপ লাগছে। তারা কীভাবে সামনের দিকে এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে বসবাস করবে।? এমনিতে আমরা দেশ হিসেবে পিছিয়ে গেছি। এখন তালেবানরা ক্ষমতায় এসে এবার নতুন কী যে করে ভেবে শঙ্কিত।’

২ বছর বয়স থেকে সেই যে দেশ ছেড়েছেন। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি। তবে দেশের হয়ে ফুটবল খেলে যাচ্ছেন। এই তো বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে কাতারে খেলেছেন সাইঘানি। দেশের পতাকা বুকে জড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লাব ফুটবলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্বপ্ন দেখেন একসময় দেশ এগিয়ে যাবে। আধুনিক এক রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কিন্তু সেই স্বপ্নে আপাতত বাধা তালেবান! আফগানিস্তানের সঙ্গে জার্মানিরও দ্বৈত নাগরিকত্ব তার। কিন্তু মাতৃভূমির টান যে কোনোমতেই ভুলতে পারেন না দুই মৌসুম ধরে আকাশি-নীল জার্সিধারীদের হয়ে খেলা মাসিহ সাইঘানি!