ওয়ানডে না খেলা রাহী কেন বিশ্বকাপ দলে?

বিশ্বকাপে যাচ্ছেন আবু জায়েদ রাহীআলোচনায় ছিলেন না খুব একটা। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার একদিন আগে অল্পবিস্তর শোনা গিয়েছিল আবু জায়েদ রাহীর নাম। যার ওয়ানডে খেলারই অভিজ্ঞতা নেই, তাকে নিয়ে নির্বাচকরা বাজি ধরবেন, এমন বাজি ধরার লোকের সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। অথচ মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে সুযোগ পেয়ে গেলেন এই পেসার।

বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন আগেই। ৫ টেস্ট ও ৩ টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও রাহীর খেলা হয়নি ওয়ানডে। সেই তারই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়াটা সবচেয়ে বড় চমক। তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলামকে পেছনে ফেলে মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি বেছে নিয়েছেন লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে ৫৪ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নেওয়া রাহীকে।

২৫ বছর বয়সী এই পেসারের ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার বড় কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক নান্নু বলেছেন তার কার্যকরী সুইংয়ের কথা। ইংলিশ কন্ডিশনে রাহীর গতির সঙ্গে সুইং বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচক।

বিশ্বকাপ দল ঘোষণা পর রাহীর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নান্নুর বক্তব্য, ‘নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনে সে (রাহী) টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল, তবে ওয়ানডে খেলার সুযোগ পায়নি। ওই কন্ডিশনে আমরা যতটা দেখেছি যে, ওর বোলিংয়ে যথেষ্ট সুইং আছে।’

ইংলিশ কন্ডিশনেও কার্যকরী হয়ে ওঠার চিন্তা থেকেই নান্নু এগিয়ে রেখেছেন রাহীকে, ‘আমাদের পেসারদের মধ্যে সুইং বোলারের সংখ্যা বেশ কম। যেহেতু ইংলিশ কন্ডিশনে খেলা, আবার আয়ারল্যান্ডেও ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে। আর মে ও জুন মাসের দিকে ঠান্ডাও বেশি থাকে (ইংল্যান্ডে)। তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। সেই হিসেবে পেসারদের মধ্যে সুইং বোলার কাউকে যদি অন্তর্ভুক্ত করতে পারি, তাহলে সেটি আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। সেই চিন্তা করে রাহীকে দলে রাখা হয়েছে।’

নিউজিল্যান্ড সফরের দলটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন নির্বাচকরা। রাহী ওয়ানডে না খেললেও ওই কন্ডিশনে সুইং বোলিং দিয়ে আস্থা অর্জন করেছেন নান্নুদের। বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডেতে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রাহী সেই আস্থার জবাব কতটা দিতে পারেন, সেটাই থাকবে দেখার।