নাহিদ রানাকে খেলানোই কি কাল হলো? বিসিবির ব্যাখ্যায় নতুন মোড়

বাংলাদেশের পেস সেনসেশন নাহিদ রানার চোট ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে তুমুল আলোচনা। জিম্বাবুয়ে সফরের সীমিত ওভারের সিরিজে খেলানোর সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর হতে যাওয়া ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সমালোচনার মুখে এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

আরও পড়ুন: নাহিদ নেই, মোস্তাফিজ-লিটন-শরিফুলের জন্য অপেক্ষা! 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নাহিদের ওয়ার্কলোড বা চাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন তিনি। এই চোটের কারণে তাকে আট থেকে ১০ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

এরপর থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন নির্বাচকরা। অনেকের মতে, তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ জিম্বাবুয়ে সফরের সাদা বলের সিরিজে নাহিদকে খেলানোর সিদ্ধান্তই বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি থেকে বঞ্চিত করেছে।

সোমবার এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ‘আমরা যখনই কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেই, শুধু নাহিদ রানা নয়, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা দীর্ঘদিন ধরে টেনিস এলবো সমস্যায় ভোগা তাওহীদ হৃদয়-সবার ক্ষেত্রেই প্রথমে মেডিকেল বিভাগের মূল্যায়ন নেওয়া হয়। এরপর টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ওয়ার্কলোড ও ইনজুরি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হয়। কে খেলার জন্য প্রস্তুত আর কে নয়, সেই প্রতিবেদনই আমাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি।’

বাশার বলেন, নাহিদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় সবসময়ই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, ‘এখন ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট শুধু কথার বিষয় নয়। খেলোয়াড়রা জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করে, ফলে তাদের প্রতিটি বিষয় ও শারীরিক চাপের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সেই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেই ঠিক করা হয় একজন ক্রিকেটার কোন ম্যাচ খেলবেন, কতগুলো ম্যাচ খেলবেন এবং কোন সিরিজে অংশ নেবেন। এই প্রক্রিয়া শুধু নাহিদের জন্য নয়, তাসকিনসহ আমাদের সব পেসারের ক্ষেত্রেই একইভাবে অনুসরণ করা হয়।’

এরপর তিনি জিম্বাবুয়ে সফরে নাহিদের ওয়ার্কলোড কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, সেটিও ব্যাখ্যা করেন। হারারেতে একমাত্র টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হলেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ এবং পরে দুটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে প্রথমটিতে খেলানো হয়েছিল তাকে, ‘নাহিদের সূচি দেখলেই বোঝা যাবে, আমরা তাকে সব ম্যাচ খেলাইনি। সে প্রথম দুটি ওয়ানডে খেলেছে, এরপর এক সপ্তাহ বিশ্রাম পেয়েছে। তারপর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওয়ার্কলোড পরিকল্পনা অনুযায়ী সে টেস্ট খেলার জন্যও প্রস্তুত ছিল। তারপরও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের গুরুত্ব বিবেচনায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা তাকে সেই টেস্টে খেলাইনি।"

তবে বাশার স্বীকার করেছেন, চাইলে পুরো সাদা বলের সিরিজেই নাহিদকে বিশ্রামে রাখা যেতো। কিন্তু তাকে খেলানোর পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ ছিল বলে দাবি করেন তিনি, ‘ওয়ানডে সিরিজের জন্য সে পুরোপুরি ফিট ছিল। সে তিনটির মধ্যে দুটি ওয়ানডে খেলেছে। এরপর প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছে এবং দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যথা অনুভব করেছে। আমার মনে হয়, এটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। অবশ্যই চাইলে আমরা তাকে খেলাতাম না। ওয়ানডে সিরিজটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল না, আর টি-টোয়েন্টি সিরিজও কোনো আসন্ন আইসিসি ইভেন্টের প্রস্তুতির অংশ ছিল না। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে এখনও প্রায় দুই বছর বাকি। তাই চাইলে তাকে পুরো সফরেই বিশ্রামে রাখা যেতো।’