ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ হওয়া পাকিস্তান সিরিজ আবারও ক্রিকেটের এক দুর্লভ ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে হারানোর পর ইংল্যান্ডের ওলি রবিনসন এবং পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস- দুজনকেই ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত করা হয়েছে।
সাধারণত একজনকেই পুরো সিরিজের সেরা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত দর্শকরা। ফলে এটা আলাদা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে আয়োজিত সিরিজে এটি দীর্ঘদিনের একটি রীতি। এখানে দুই দলের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার বদলে দুই দলের সেরা পারফরমারকে আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে সিরিজে বড় ব্যবধানে হারলেও সফরকারী দলের সেরা খেলোয়াড়ও সমান সম্মান পান।
২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত সিরিজেও এই রীতিটি আলোচনায় আসে। সেবার ভারতের শুবমান গিল ও ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পুরস্কার বাছাই করেছিলেন দুই দলের কোচ। ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ভারতের সেরা পারফরমার হিসেবে গিলকে এবং ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর ইংল্যান্ডের সেরা হিসেবে ব্রুককে বেছে নিয়েছিলেন।
চলতি বছরের ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজেও এই নিয়মের যথার্থ উদাহরণ দেখা গেছে। প্রথম টেস্ট থেকেই পাকিস্তানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ইংল্যান্ড। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে জয়ের পর লর্ডসে ১৯৪ রানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে তারা। এরপর এজবাস্টন টেস্ট জিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ছিলেন রবিনসন। তিন টেস্টে ২১ উইকেট নিয়েছেন তিনি, গড় ছিল মাত্র ৮.৭৬। বিশেষ করে প্রথম দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের পেস সহায়ক কন্ডিশন দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের হয়ে উজ্জ্বল পারফরমারদের একজন ছিলেন আব্বাস। তিন টেস্টে ১৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৮৬ রান। লর্ডস টেস্টে ছিলেন বিশেষভাবে সফল। এক ম্যাচেই নিয়েছেন ৯ উইকেট, যার মধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল পাঁচ উইকেট। ফলে দুই দলের সেরা পারফরম্যান্স আলাদাভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।