একদিকে ইতিহাসের মঞ্চে জাপানের দারুণ লড়াই, অন্যদিকে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে তুমুল বিতর্ক। বৃষ্টিবিঘ্নিত ভারত-জাপান ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ নেমে এসেছিল পাঁচ ওভারে। আগে ব্যাট করে ভারত ৫ ওভারে ৪ উইকেটে মাত্র ৩২ রান করে। জবাবে জাপানও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে শেষ বল পর্যন্ত। ৪.২ ওভারে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২৭। এরপরই তৈরি হয় নাটক।
অক্ষর প্যাটেলের করা ওভারের তৃতীয় বলে আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপ করার চেষ্টা করেন। বলটি লেগ সাইডের বাইরে দিয়ে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওয়াইডের সংকেত দেন আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন।
কিন্তু ভারতের উইকেটকিপার সঞ্জু স্যামসন ও অক্ষর প্যাটেল সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিলেন না। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও স্কয়ার লেগ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। এরপর দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার ব্রাউন ও ক্রিস থারগেট নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।
কিছুক্ষণ পর বদলে যায় সিদ্ধান্ত। ওয়াইডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। আর এই সিদ্ধান্ত বদল নিয়েই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। ক্রিকেটভক্তদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রথমে ওয়াইড দেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে পরে বদলে গেলো?
ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ভারত ২ রানে জয় পেলেও জাপানের লড়াই ছিল প্রশংসা পাওয়ার মতো। প্রথমে ব্যাট করে ভারতকে মাত্র ৩২ রানে আটকে দেওয়ার পর জাপানও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত পাঁচ ওভারে ৩০ রান করতে পারে তারা।
ম্যাচ শেষে জাপানের অধিনায়ক কেন্ডেল কাদাওয়াকি-ফ্লেমিং অবশ্য হারের হতাশার চেয়ে দলের লড়াইয়ের দিকটিই বড় করে দেখেছেন। তার মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে পারাটাই জাপানের জন্য বিশেষ কিছু।
তিনি বলেছেন, ‘যখন ম্যাচটা এত কাছাকাছি চলে যায়, তখন হারটা মেনে নেওয়া একটু কঠিন। আমাদের দলের আবেগও এখন অনেক বেশি। কিন্তু আমার মতে, বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ে যেতে পেরেছি, এটা সত্যিই বিশেষ।’
ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার জাপান ক্রিকেটের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলায় সেটিও নিজের জন্য ‘অবিশ্বাস্য’ অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন কাদাওয়াকি-ফ্লেমিং, ‘জাপান ক্রিকেটের অগ্রগতি নিয়ে শ্রেয়াসের মতো একজনের কথা শুনতে পারাটাও এখনও আমার কাছে অবাস্তব মনে হয়। তাই আমাদের দল এবং পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’
আইসিসির নিয়ম কী বলছে?
ওয়াইডের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসির নিয়মে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার। কোনও ব্যাটার যদি রিভার্স সুইপ কিংবা সুইচ হিট করার চেষ্টা করেন, সেক্ষেত্রে উইকেটের দুই পাশকেই ‘অফ সাইড’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ, ব্যাটারের বাইরের স্টাম্প থেকে বলটি ৭৫ সেন্টিমিটারের বেশি দূরে গেলে তবেই সেটিকে ওয়াইড হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এমনকি ব্যাটার স্ট্যান্স পরিবর্তনের ভান করে পরে আবার স্বাভাবিক স্ট্যান্সে ফিরে এলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অর্থাৎ, উইকেটের দুই পাশই তখন অফ সাইড হিসেবে গণ্য হবে। আইসিসির প্রতিটি আম্পায়ারকে দেওয়া ম্যানুয়ালেই এই নির্দেশনা রয়েছে।
নিয়মটির যুক্তিও সহজ। ব্যাটার স্ট্যান্স বদলে নিলে লেগ সাইডের বলও তার ব্যাটের নাগালের মধ্যে চলে আসে। তাই রিভার্স বা সুইচ হিটের চেষ্টা করার ক্ষেত্রে লেগ সাইডের বলকে সাধারণ নিয়মে ওয়াইড হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।