এই মৌসুমে আগের তিন ম্যাচে লিভারপুলের কাছে দুটি হেরে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। গত ডিসেম্বরে কারাবাও কাপে সবশেষ লড়াইয়ে অবশ্য জিতেছিল তারা। শনিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলো সিটিজেনরা। পেপ গার্দিওলার দল আধিপত্য বিস্তার করে খেললো এবং জয় পেলো ৪-১ গোলে।
১৭ মিনিটে আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের বাড়ানো বলে ডিওগো জোতা লক্ষ্যে শট নিতে গিয়েও নেননি। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের চাপে পড়ে পাস দেন মোহাম্মদ সালাহকে। মিশরীয় ফরোয়ার্ড শক্তিশালী শটে খোলেন গোলমুখ। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যামের রোমেলু লুকাকুর পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড় হিসেবে একই মৌসুমে একই প্রতিপক্ষের জালে ভিন্ন চার ম্যাচে গোল করলেন সালাহ।
সালাহ ২৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন। জ্যাক গ্রিলিশ ট্যাকল করে সিটিকে রক্ষা করেন। তার গায়ে লেগে বল এডারসনের হাতে ধরা দেয়।
পরের মিনিটে গ্রিলিশের নিচু ক্রস থেকে জুলিয়ান আলভারেজ পরাস্ত করেন আলিসনকে। সমতা ফেরায় ম্যানসিটি।
বিরতির পর মাঠে নেমে অপ্রতিরোধ্য সিটিজেনরা। দ্বিতীয়ার্ধের কয়েক সেকেন্ড যেতেই কেভিন ডি ব্রুইনার দ্বিতীয় গোল করেন। ৫০ মিনিটে রুবেন দিয়াসের শট ঠেকিয়ে লিড ধরে রাখেন এডারসন। তিন মিনিট পর আলভারেজের শট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড ব্লক করলেও ফিরতি শটে ইকে গুন্ডোগান ৩-১ করেন।
ম্যানসিটি আরেকটি গোলে এগিয়ে যায় ৭৪ মিনিটে। তার আগে লিভারপুলকে পুরো মাঠ ক্লান্ত করে ছাড়ে স্বাগতিক খেলোয়াড়রা। মাঠজুড়ে পাসের পর পাস দিয়ে হুট করে আক্রমণে গিয়ে গোল পায় তারা। ডি ব্রুইনাকে পাস দিয়ে গ্রিলিশ বক্সে ঢুকে যান এবং বেলজিয়ানের ফিরতি পাস থেকে স্কোর ৪-১ করেন।
এই জয়ে ২৮ ম্যাচে ৬৪ পয়েন্ট পেলো ম্যানসিটি। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের (৬৯) সঙ্গে ব্যবধান পাঁচ পয়েন্টে নামালো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
আর্সেনালের সুযোগ থাকছে পয়েন্ট আগের মতো আটে বাড়ানোর। লিডস ইউনাইটেডকে পরের ম্যাচে স্বাগত জানাবে গানাররা।
এই হারে লিভারপুলের সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার আশায় বড় ধাক্কা লাগলো। ২৭ ম্যাচে তাদের অর্জন ৪২ পয়েন্ট। ষষ্ঠ স্থানে অলরেডরা। এক ম্যাচ বেশি খেলে সাত পয়েন্টে এগিয়ে থেকে চারে টটেনহ্যাম হটস্পার (৪৯)।