নিষিদ্ধ সোহাগের আইনজীবী বললেন, ‘রায় আমাদের পক্ষে আসবে’

আর্থিক অনিয়মের কারণে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। শাস্তির পর থেকেই তিনি গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছিলেন। বুধবার হুট করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অবশেষে সেখানে দুর্নীতি প্রশ্নে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রথমেই সংবাদ সম্মেলন করার কারণ জানিয়ে সোহাগ বলেছেন, ‘অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু সেভাবে সাড়া দিতে পারিনি। তাই আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত। অনেক বিষয়ে এখনই মন্তব্য করবো না। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) আপিল করেছি। এখন মন্তব্য করলে আবার ফিফা বলতে পারে কেন মন্তব্য করলাম। আশা করছি অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে নিজের সম্মান, বাংলাদেশের সম্মান বজায় রাখতে পারবো।’

তিনি মন্তব্য করেছেন, সময়ই সবকিছুর উত্তর দেবে, ‘সময় সকল কিছুর উত্তর দেবে। আমি আশা করি নিজের সম্মান, বাংলাদেশের সম্মান ফিরিয়ে আনতে পারবো। ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে ফুটবলকে ভালোবেসেই ফুটবল ফেডারেশনে কাজ করেছি। অনেকে বলেছে রাত পর্যন্ত ভবনে থেকেছি, তখন কাজ করেছি এসব নিয়েই। পাঁচ বছরের অনেক ডকুমেন্টস সংগ্রহ করেছি।’

নিষেধাজ্ঞার পর বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইতোমধ্যে ফিফার রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন। আগামী ১৫ মের মধ্যে এই আপিলের বিষয়ে সব ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। যার পেছনে কাজ করছেন সোহাগের আইনজীবী আজমল কেসি। আপিলের রায় কখন আসতে পারে, আপিলের রায় নিয়ে কী প্রত্যাশা- এমন প্রশ্নে সোহাগের আইনজীবী বলেছেন, ‘এটা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এক মাসও লাগতে পারে আবার বছর খানেকও লাগতে পারে। কারণ, তাদের হাতে অনেক কেস থাকে। তবে আমরা আশাবাদী আপিলের রায় আমাদের পক্ষেই আসবে।’

গত ১৪ এপ্রিল আবু নাঈম সোহাগকে সব ধরনের ফুটবল থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এছাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় তাকে প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। সোহাগের বিরুদ্ধ অভিযোগ, বাফুফেকে দেওয়া ফিফার অর্থের খরচ দেখাতে তিনি ভুল ডকুমেন্ট দেখিয়েছেন। ফিফা শুনানি ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই এই শাস্তি দিয়েছে বলে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফিফার সাধারণ আর্টিকেল ১৫ (দায়িত্বে অবহেলা), ১৫ (সততা) ও ২৪ (মিথ্যা তথ্য দেওয়া) ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে।