মোহামেডানের কাছে কিংস অ্যারেনাতে প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। আজ শুক্রবার রহমতগঞ্জও সেই পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিল। শুরুতে আরনেস্ট বোয়েটাং গোল করে কিংসকে পিছিয়ে দেন। কিন্তু বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা দারুণ শক্তি সঞ্চয় করে চার গোল দিয়ে পুরোনো ঢাকার দলটিকে নতুন ইতিহাস গড়তে দেয়নি। বসুন্ধরা কিংস ৪-১ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে প্রথম পর্বে সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে।
ভাষার মাস হওয়াতে বসুন্ধরা কিংস নতুনত্ব এনেছে। খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে বাংলাতে নামের পাশাপাশি নাম্বারিং করে মাঠে নামে। শুক্রবার কিংস অ্যারেনাতে কিংসকে প্রথম গোল করে ধাক্কা দেয় রহমতগঞ্জ।
১০ মিনিটে রহমতগঞ্জ এগিয়ে যায়। সুশান্ত ত্রিপুরার ডান পায়ের ফ্রি কিকে ঘানার বোয়েটাং দারুণ হেডে গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাস্ত করেন। শ্রাবণ বলের লাইনে ডান দিকে ঝাঁপালেও অল্পের জন্য নাগাল পাননি।
গোল শোধে কিংস কম চেষ্টা করেননি। এক রাকিব হোসেন একাই তেড়েফুঁড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছিন্নভিন্ন করে গোল করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যান।
১৮ মিনিটে রাকিব হোসেন গোলকিপার মোহাম্মদ নাঈমের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করে সফল হতে পারেননি। নাঈম দুই পা এক করে তা রুখে দেন।
একটু পর রবিনিয়োর ক্রসে রাকিবের হেড পোস্টের ওপর দিয়ে গেলে হতাশায় মুখ ঢাকেন। ২৬ মিনিটে অবশেষে রাকিব সফল হন। সমতায় ফেরে কিংস। মাশুক মিয়া জনির পাসে তিনি কোনাকুনি জোরালো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।
তিন মিনিট পর গোলকিপারের ওপর দিয়ে দোরিয়েলতনের নেওয়া শট গোললাইন অতিক্রম করার আগেই সুশান্ত সেভ করেন।
যোগ করা সময়ে সুশান্ত ও মিগেল কিছুটা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। শুরুতে সুশান্ত হাত টেনে ধরেন মিগেলের। পরবর্তীতে সুশান্তের ঘাড়ে আঘাত দিয়ে ফেলে দেন মিগেল। এসময় রেফারিকে ঘিরে নিজেদের প্রতিবাদ জানাতে থাকে খেলোয়াড়রা। যার কারণে খেলা অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল। তবে রেফারি নাসিরউদ্দিন অজানা কারণে কাউকে কোনও কার্ড দেখাননি!
যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে মিগেলের শট ডিফেন্ডার রাজন মিয়া গোললাইন ক্লিয়ার করে কিংসকে এগিয়ে যেতে দেননি।
বিরতির পর কিংসের দাপট অব্যাহত ছিল। তিন গোল আসে এই অর্ধে।
৫৫ মিনিটে লিড নেয় কিংস। মিগেলের ফ্রি কিক আশ্রয় নেয় জালে। গোলকিপার নাঈম এবারও ঝাঁপালেও কোনও কাজ হয়নি।
৭০ মিনিটে রহমতগঞ্জ ভালো সুযোগ পেয়েছিল। দাউদা সিসে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ হাঁটু নিচু করে রুখে দিয়ে দলের অগ্রযাত্রা ঠিক রাখেন।
যোগ করা সময়ের শুরুতে মিগেলের পাসে দোরিয়েলতন ফাঁকায় পোস্টের সামনে জড়িয়ে দেন জালে। আট গোল নিয়ে শীর্ষে এই ব্রাজিলিয়ানই। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে রবিনিয়ো গোল করে রহমতগঞ্জকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন।
টানা সাত ড্রয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেলো জাহিদুর রহমান মিলনের দল।
দিনের অন্য ম্যাচে ফর্টিস এফসি ২-১ গোলে হারায় পুলিশ এফসিকে।
কিংস ৮ ম্যাচে সপ্তম জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। রহমতগঞ্জ সমান ম্যাচে প্রথম হার ও সাত ড্রয়ে আগের ৭ পয়েন্টে অষ্টম স্থানে আছে। ফর্টিস ৮ ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ৯ পয়েন্টে এক লাফে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। পুলিশ পঞ্চম হারে আগের ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।