ইউরোর শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমে আলবেনিয়ার কাছে প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে ইতালি। পিছিয়ে পড়লেও দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে বেশ তাড়াতাড়ি। লিড নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচের বেশিরভাগ সময় গোল খাওয়ার ভয় নিয়ে খেলে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত আলবেনিয়ার রেকর্ড দ্রুততম গোল ছাপিয়ে তারা হেসেছে শেষ হাসি। ২-১ গোলে জিতে ইউরোপ সেরার মঞ্চে শুভ সূচনা হলো আজ্জুরিদের।
কিক অফের বাঁশি বেজেছে কেবল। নিজেদের অর্ধে থ্রো ইন পায় ইতালি। ফেদেরিকো দিমার্কো থ্রো করে কিপারের কাছে বল দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুল করে ফেললেন। আলগা বল সামনে পেয়ে আলবেনিয়ার মিডফিল্ডার নেদিম বাজরামি আক্রমণে গেলেন। ইতালি ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বাস্তোনির সামনে দিয়ে আড়াআড়ি শটে কিপার জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে পরাস্ত করেন তিনি।
সিটে বসার আগেই ডর্টমুন্ডের সিগনাল ইদুনা পার্ক গর্জে ওঠে। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড হয়ে গেলো এই লক্ষ্যভেদী শটে। মাত্র ২৩ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় আলবেনিয়া।
ইউরোর ইতিহাসে এর আগে সবচেয়ে দ্রুততম গোল হয়েছিল ৬৭ সেকেন্ডে। ২০০৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে রাশিয়ার দিমিত্রি কিরিচেঙ্কো করেন ওই গোল।
ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি ইতালি। ডান দিক থেকে কর্নারে লরেঞ্জো পেল্লেগ্রিনির চমৎকার ক্রসে বাস্তোনির হেড জাল কাঁপায়। ১১ মিনিটে সমতা ফেরায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
মুহুর্মুহু আক্রমণে আলবেনিয়ার রক্ষণ হিমশিম খেতে থাকে। ১৬ মিনিটে ইতালির তেমনই একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলে তারা। বক্স থেকে বল বিপদমুক্ত করতে চেয়েও পারেনি। দিমার্কোর পায়ে বল লেগে যখন বাইরে গেলো, তখন নিকোলা বারেল্লার পায়ে বল। প্রথম শটেই লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
বিরতির আগে আরও গোল পেতে পারতো ইতালি। আলবেনিয়া কিপার থমাস স্ত্রাকোশা দারুণ সেভে তাদের হতাশ করেন। ৩৩ মিনিটে ডেভিড ফ্রাত্তেসি বল তুলে দেন কিপারের মাথার ওপর দিয়ে। স্ত্রাকোশা ডানহাতের আলতো ছোঁয়ায় বলের গতিপথ পাল্টে দেন। পোস্টে আঘাত করে বল।
সাত মিনিট পর বক্সের প্রান্ত থেকে পেল্লেগ্রিনির হেডে আলবেনিয়ার রক্ষণভাগ পেরিয়ে বল পান স্কামাক্কা। তার লক্ষ্যে নেওয়া শট দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দেন স্ত্রাকোশা। ইনজুরি টাইমে চিয়েসার দারুণ ক্রসে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি পেল্লেগ্রিনি। মাথা ছোঁয়ালেও বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে।
বিরতির পর ইতালি আবারও সুযোগ নষ্ট করে। চিয়েসা ডানপ্রান্তে বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন। মারিও মিতাজকে ফাঁকি দিয়ে বাঁ দিকে ঢুকে লক্ষ্যে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁকানো শট বাঁ পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তে আলবেনিয়া গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। ৯০ মিনিটে আসলানির উঁচু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান রেই মানাজ। বুক দিয়ে বল নামিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জের মুখে জালে বল পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দোনারুম্মার গায়ে লেগে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
‘বি’ গ্রুপে আগের ম্যাচে স্পেন ৩-০ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়াকে। তাদের মতো তিন পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলে ইতালিও।