গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বেলজিয়াম, স্লোভাকিয়াকে নিয়ে শেষ ষোলোতে রোমানিয়া

ইউক্রেন ও বেলজিয়ামের লড়াই হলো সমানে সমান। দুর্বল ফিনিশিং আর অসম্পূর্ণ পাসের কারণে বেলজিয়াম গোলের দেখা পায়নি। আর শেষ দিকে ইউক্রেনের একাধিক প্রচেষ্টা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিলেন বেলজিয়ান কিপার কোয়েন ক্যাস্টিলস। তাতে ম্যাচটি হলো গোলশূন্য ড্র। বেলজিয়াম উঠে গেলো শেষ ষোলোতে, আর বিদায় নিলো ইউক্রেন। 

দিনের আরেক ম্যাচে রোমানিয়া গোল শোধ দিয়ে ১-১ এ ড্র করেছে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোমানিয়া আর স্লোভাকিয়া তৃতীয়। গ্রুপে প্রত্যেকেরই সুযোগ ছিল শেষ ষোলোতে যাওয়ার। সবাই তিনটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নেমেছিল। শেষও হলো সমান পয়েন্ট নিয়ে।

চার দলই সমান ৪টি করে পয়েন্ট পেয়েছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষে রোমানিয়া, ২০০০ সালের পর প্রথমবার নকআউটে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থেকে গ্রুপের খেলা শেষ করেছে বেলজিয়াম, তারা গোল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে স্লোভাকিয়াকে। যদিও সেরা চার তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের পর্বে উঠেছে স্লোভাকরা।

স্টুটগার্ট এরেনায় প্রথম সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম। সপ্তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার বাড়ানো বল পেয়ে লক্ষ্যে শট নেন রোমেলু লুকাকু। ইউক্রেন গোলকিপার আনাতোলি ট্রুবিন তাকে ব্যর্থ করেন।

আরও কয়েকবার বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডরা আক্রমণ চালালেও বক্সের মধ্যে ঠিক জায়গায় পাস দিতে পারছিল না।

২১ মিনিটে রোমান ইয়ারেমচুকের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন বেলজিয়ান কিপার ক্যাস্টিলস। আট মিনিট পর ইউক্রেন ফরোয়ার্ডের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

বিরতির আগে ডোকুর পাস থেকে ডি ব্রুইনা বক্সের মধ্যে ট্রসার্ডের কাছে বল দেওয়া আগেই ইউক্রেনিয়ান ডিফেন্স বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ডি ব্রুইনার শট রুখে দেন ট্রুবিন।

৬৫ মিনিটে ম্যানসিটি মিডফিল্ডারের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া লুকাকুর শট আবারও আটকে যায় ইউক্রেনিয়ান গোলকিপারের হাতে।

খেলার শেষ ১০ মিনিটে হাইপ্রেসিং ফুটবল খেলে গোল আদায়ের চেষ্টা করে ইউক্রেন। ৮০ মিনিটে গোরোনার স্ট্রাইক সাইড নেটে লাগে। চার মিনিট পর কর্নার থেকে মালিনোভস্কির নিচু শট একবারেই জালে ঢুকতে বসেছিল। গোললাইন থেকে তা ফিরিয়ে দেন ক্যাস্টিলস। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে বেলজিয়ামের ডিফেন্স চেড়া শট নেন সুদাকোভ। নিচু হয়ে আসা বল রুখে দিয়ে ইউক্রেনকে হতাশায় ভাসান ক্যাস্টিলস। তাতে ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য থেকে।

এদিকে ফ্রাঙ্কফুর্ট এরেনাতেও তীব্র লড়াই হয়েছে। জুরাজ কুকার ক্রসে ওন্দ্রেজ দুদার হেডে ২৪ মিনিটে এগিয়ে যায় স্লোভাকিয়া। বিরতির আগেই সমতা ফেরায় রোমানিয়ানরা। ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রাজভান মারিন স্কোর ১-১ করেন।

রোমানিয়ার শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ স্লোভেনিয়া কিংবা নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম খেলবে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ ফ্রান্সের বিপক্ষে।